বুবাই শীল, জলপাইগুড়ি: বাবার মৃত্যুতে শোকের ভার ঘনিয়ে এসেছে পরিবারে। তবু দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি। গুরুদশার মধ্যেই এসআইআর-এর কাজ সামলে যাচ্ছেন জলপাইগুড়ির নন্দনপুর বোয়ালমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭/২১৯ বুথের বিএলও, প্রাথমিক শিক্ষক বিরাজ কুমার সরকার। পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনও।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘বিএলও বড় বালাই’—এই মন্তব্য শোনা যায়। অনেকে এই দায়িত্ব পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে। কোথাও কোথাও আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। তবে এই উদ্বেগের মাঝেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিরাজবাবু।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রয়াত হন তার বাবা, যিনি নিজেও ছিলেন শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী দায়মুক্তির সুযোগ থাকলেও সেই পথে হাঁটেননি বিরাজবাবু। বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ করেই ফের duty নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন তিনি।
প্রশাসনের মতে, এসআইআর পর্বে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থার খবরের মধ্যেও এটি এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। বিরাজবাবুর দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাও। শুধু তাই নয়—তাঁর বাড়িতে গিয়ে শ্রাদ্ধশান্তির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিয়েছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।










