Home / খবর / জেলায় জেলায় / ঠিক নথি আনছেন না প্রায় ৫০%, সালানপুর ব্লকে রাত পর্যন্ত চলছে শুনানি

ঠিক নথি আনছেন না প্রায় ৫০%, সালানপুর ব্লকে রাত পর্যন্ত চলছে শুনানি

সালানপুর : রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই চলছে এসআইআরের শুনানি পর্ব। তবে এত দেরির কারণ হিসেবে জানা গেছে যে, শুনানিতে ডাক পাওয়া প্রায় অর্ধেক ব্যক্তি যথাযথ নথি নিয়ে আসছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সাধারণভাবে আধার প্যান ভোটার কার্ড ইত্যাদি নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এইসব নথি সাধারণভাবে গ্রাহ্য হলেও শুনানিতে নিশ্চিত উতরে যাওয়ার জন্য এগুলির সঙ্গেই প্রয়োজন বার্থ সার্টিফিকেট কিংবা স্কুলের বোর্ড স্বীকৃত সার্টিফিকেট বা পাসপোর্ট অথবা ১৯৮৭ সালের আগের কোনও পারিবারিক ডকুমেন্ট ইত্যাদি। অনেক ক্ষেত্রেই অনেকে এইসব নথির কোনও একটিও নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে না আসায় তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে বাড়িতে এবং পুনরায় তারা সেইসব ডকুমেন্ট নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হচ্ছেন, ফলে যথেষ্ট দেরীর কবলে পড়তে হচ্ছে কমিশনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গেই শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদেরও।

২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই শুনানি পর্ব সালানপুর ব্লকের দুটি জায়গায় চলছে। রূপনারায়ণপুর আইটিআই এবং বিডিও অফিসে প্রতিদিনই ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। ‌ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এখানে ৬ জন এইআরও এবং একজন আরও শুনানির চূড়ান্ত পর্যায়টি সামলাচ্ছেন। দিন প্রতি গড়ে প্রতি আধিকারিকের কাছে দেড়শো জনের শুনানি হচ্ছে।

‌ জানা গেছে, যেসব ব্যক্তি নিশ্চিত ভাবে সঠিক ডকুমেন্ট পেশ করতে পারছেন তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকার জন্য সঙ্গে সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, বাকিদের বিষয়গুলি হোল্ডে রাখা হচ্ছে পরবর্তী বিবেচনার জন্য।

এ বিষয়ে সালানপুর ব্লক কর্তৃপক্ষ শুনানিতে ডাক পাওয়া ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন তারা যেন আধার প্যান ভোটার কার্ড ইত্যাদির সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩ টি নথির যেকোনও একটি অবশ্যই সঙ্গে আনেন। তাহলে হয়রানি সকলেরই কম হবে।

বিশেষ সূত্রে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী জানা গেছে, শুনানিতে ডাক পাওয়া অর্ধেক মানুষই কমিশনের নির্ধারিত নথি সঙ্গে আনছেন না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, গ্রামীণ এলাকার মানুষজন বিষয়টি নিয়ে এখনো খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। তারা অন্যান্য বিষয়ের মতই নির্বাচন কমিশনের শুনানিকেও একটি সাধারণ বিষয় বলে মনে করছেন, যা আদৌ ঠিক নয়।

আজ প্রান্তভূমির প্রতিনিধি আইটিআই এবং বিডিও অফিসে সরেজমিন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন দুটি কেন্দ্রেই ভিড় থাকলেও মোটামুটি ভাবে মানুষজন কমিশনের কাজে সন্তুষ্ট। লাইনে দাঁড়ানো মানুষজনরা বলেন, দেরি হলেও শুনানির সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে প্রথম তিনদিন শুনানিতে সালানপুর ব্লকে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। পুলিশ প্রশাসন ভিড় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় আছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ব্লক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, শুনানির নির্দিষ্ট দিনে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হতে না পারলে পর্যাপ্ত কারণ সহ কমিশনে লিখিত আবেদন করলে কমিশন সেই আবেদনের সারবত্বা বিবেচনা করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এছাড়াও অশক্ত ব্যক্তি যদি শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারেন তাহলে বাড়িতে গিয়ে সেই শুনানি করা হতে পারে বলেও নির্বাচন কমিশন চিন্তা ভাবনা করছে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *