অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: রাজগঞ্জের আমবাড়িতে দলীয় প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের সমর্থনে নারীশক্তির জয়গান গেয়েছিলেন। মঙ্গলবার শহর লাগোয়া নারায়নপুরের এসজেডিএ ময়দানে এসে বিরোধী শিবিরের প্রতি আক্রমণাত্মক মেজাজে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূলের সেকেণ্ড ইন-কমাণ্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, উন্নয়ন, কৃষিকেও হাতিয়ার করলেন তিনি। আমজনতার উপস্থিতির হার দেখেও খুশি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বললেন, এখানে জয়ী হলে জুন মাসে আবার আসব। বিজয় উৎসব হবে।
এদিন জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে জনসভা করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ছিলেন দলের জেলা চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়, জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ-সহ অন্যরা। দলের শাখা সংগঠনের নেতারাও ছিলেন মঞ্চে। এ দিন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অভিষেক। তার মাঝে উন্নয়নের বার্তাও দিলেন তিনি। কৃষি প্রধান নারায়নপুর এলাকায় জনসভা হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নকেই বিশেষ গুরুত্ব দিলেন তিনি।
অভিষেক বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে জিতে তৃণমূল সরকার গড়লে কৃষিক্ষেত্রে আলাদাভাবে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। প্রতি মাসে কৃষকদের ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সারের দামবৃদ্ধি নিয়েও এদিন সুর চড়ান অভিষেক। তিনি বলেন, ” যে সার আগে কৃষকেরা ১৪৫০ টাকায় কিনতেন, সেটাই এখন ১৮৫০-১৯০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে মোদি সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে। পাঞ্জাবের আলুর বীজ কিনতে হচ্ছে। রাজ্য সরকার নিজের মতো করে সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সরকারে এলে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করব।” এর পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিজ্ঞার কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাড়ি বাড়ি নলবাহিত জল, দুয়ারের সরকারের আদলে দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির করার আশ্বাসও দেন তিনি। অভিষেক আরও বলেন, “আবেদন অনুযায়ী প্রত্যেক গরীব মানুষের মাথার উপরে ছাদ হবে। প্রত্যেক প্রবীণ বার্ধক্য ভাতা পাবেন।” মঞ্চ থেকেই এই বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূলের এই তরুণ তুর্কি নেতা। অভিষেক বলেন, “৯৭ হাজারের বেশি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। ৩ লক্ষ ৯০ হাজার মানুষ বিনামূল্যে রেশনের সুবিধে পাচ্ছেন। কমবেশি ১৭ হাজার মানুষ যুবসাথীর আওতায় এসেছেন। পথশ্রী প্রকল্পে ৮৯টি রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। আরও কাজ চলছে।” রাজবংশী-কামতাপুরী ভাষাকে অষ্টম তফশিলের আওতায় আনার জন্য রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তার অভিযোগ, রাজবংশীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র ও বিজেপি। অসম থেকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কোচবিহারের বিমান বন্দর বেহাল কেন, প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও এসআইআর নিয়েও আক্রমণ শানান অভিষেক। অভিষেক বলেন, আমার কাছে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড রয়েছে। বিজেপি দেখাতে পারবে কি। চ্যালেঞ্জ করছি যে কোনও জায়গায় ডিবেটে বসতে পারি। চা শ্রমিকদের উন্নয়নেরও ফিরিস্তি দেন অভিষেক। চা শ্রমিক দের মজুরি ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০০ টাকা হবে বলে জানান তিনি।
এদিন নিজের বক্তব্যে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীকে নেশাগ্রস্ত বলে দেগে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মহিলাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উত্তরবঙ্গের মিডিয়া কনভেনর শ্যাম প্রসাদ সহ-অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির সহ-সভাপতি বুবাই কর বলেন, “এই বিধানসভা কেন্দ্রে সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ বিধায়ক হয়েছেন। এই আসনে গুন্ডারাজ কায়েম করতে গিয়ে আমাদের প্রার্থী সম্পর্কে যে মন্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন তা জলপাইগুড়ির সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই মন্তব্যের ক্ষমা না চাইলে আমরা আইনের দ্বারস্থ হব।”










