চিত্তরঞ্জন : হাসপাতালের রুমের মেঝে সংস্কার করতে গিয়ে বের হল গভীর একটি কুয়ো। প্রায় সাত ফুট গভীর এই কুয়োর খোঁজ মিলল চিত্তরঞ্জন রেল বা কেজি হাসপাতালে।
এদিন রেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ৯৯ নম্বর রুমের মেঝে সংস্কারের কাজ করার জন্য ড্রিলিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। রুমের পুরনো মেঝে তুলে ফেলে নতুন মেঝে তৈরি করার জন্য কাজ করতে সংস্কারের প্রক্রিয়া চলছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করেই একেবারে হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের রুমের নিচে বিশাল একটি গর্ত দেখে কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেন।
তারপরেই দেখা যায় ওই মেঝের নিচে একটি গভীর কুয়ো।
তবে কুয়োটি খালি ছিল, তার ভেতরে কোনও জিনিসপত্র বা সন্দেহজনক কোন সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বেশদিন ধরে চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সংস্কার কাজ চলছে। বিশেষ করে পুরনো ফ্লোর তুলে ফেলে নতুন করে সেইসব কিছু নির্মাণ করা হচ্ছে ।
কারণ অর্ধ শতাব্দীর বেশি পুরনো এই হাসপাতালের একটি রুমের নিচে এমন একটি কুয়ো কিভাবে থেকে গেল, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের পিসিএমও ডাঃ অজয় কুমার বলেন, সম্ভবত হাসপাতাল ভবন নির্মাণের সময়েই এই কুয়োটি ছিল। পরে কুয়োর মুখ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল হয়তো।
কিন্তু কুয়োটিকে সম্পূর্ণ না বুজিয়েই তার উপর হাসপাতালের ভবন কিভাবে নির্মাণ করা হল?
সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাজ করতে গিয়ে হাসপাতালের রুমের নিচে কুয়ো আবিষ্কারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জানিয়ে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন পিসিএমও।
তবে নিরাপত্তার বিষয়টিকে মাথায় রেখে আপাতত ওই রুমের জায়গাটি সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, প্যাথোলজি বিভাগের এই রুম পরে তৈরি হয়েছে। সেসময় সিমেন্টের মেঝে ছিল। তখনই নিশ্চয় কুয়োটিকে বোজানো হয় ঢালাই করা স্ল্যাব দিয়ে। কিন্তু কুয়োটি পুরোপুরি বন্ধ করা বা ভেতরের গর্ত বোজানো হয় নি। এটা একটা বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ।
কিন্তু মেঝে বসে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো যে কোনও সময়। এখন গ্রানাইটের ফ্লোর করতে গিয়ে সিমেন্ট তুলে ফেলার সময় সেই কুয়োটিই বেরিয়ে পড়ল।
রেল হাসপাতালে কুয়ো বেরিয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই চিত্তরঞ্জনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।










