মালবহাল (চিত্তরঞ্জন): সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করেই ভারতের জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে জায়গা করে নিল মালবহাল ফুটবল একাডেমির লড়াকু খেলোয়াড় সোনালী মণ্ডল।
একাধিক কঠিন ট্রায়াল শেষে দেশের হয়ে খেলার জন্য ১৪ জনের যে চূড়ান্ত তালিকা ইন্ডিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বা আইএফএ প্রকাশ করেছে তাতে অন্যতম নামটিই হল সোনালীর। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যে “সাফ ওমেন্স ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬” অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি, তাতেই খেলার জন্য বেঙ্গালুরু থেকে থাইল্যান্ড উড়ে গেছে সোনালী।
মালবহাল ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষক সঞ্জীব বাউরি জানান, কলকাতা বেহালার অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়ে সোনালী। তিন বোন এক ভাইয়ের পরিবারে রোজগেরে একমাত্র তাদের বাবা ভ্যান চালিয়ে কোনোক্রমে সংসার চালান। এদিকে বেলঘরিয়া গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশের পরেই সোনালির সঙ্গে যোগাযোগ হয় সঞ্জীব বাবুর। তারই একান্ত আগ্রহে বেলঘরিয়া থেকে সোনালী চলে আসে হিন্দুস্তান কেবলস সংলগ্ন মালবহালে। সঞ্জীব বাবুর তত্ত্বাবধানে কঠোর ফুটবল অনুশীলনের পাশাপাশি লেখাপড়ার পাঠ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভর্তি হয় চিত্তরঞ্জনের মহিলা সমিতি গার্লস হাই স্কুলে। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে সঞ্জীব বাবু তাকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাটগোবিন্দপুরের কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। টানা ৩ বছর মালবহালের এমআরবিসি কোচিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে সোনালী নিজেকে ক্ষুরধার ফুটবলার করে তোলে।
ইতিমধ্যে আইএফএ পরিচালিত সাফ ফুটসল ২০২৬-এর জন্য খেলোয়াড় বাছতে কলকাতার সল্টলেকে ট্রায়াল আয়োজিত হয়। সেখানে বাংলার তিনজন মহিলা ফুটবলার সুযোগ পান। এরপর চূড়ান্ত ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয় বেঙ্গালুরুতে। চূড়ান্ত ট্রায়ালে বাংলার অন্য দুই খেলোয়াড় বাদ পড়ে গেলেও সোনালীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে তাকে বাদ দেওয়ার কোন সুযোগ পাননি নির্বাচকেরা।
ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ৬ জনুয়ারি সোনালী সহ ১৪ জনের ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল বেঙ্গালুরু থেকেই থাইল্যান্ড উড়ে যায়। সেখানে ভারত শ্রীলঙ্কা ভুটান নেপাল বাংলাদেশ মালদ্বীপ পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবে। ১৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ব্যাংককের নোন্থাবুড়ি স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতা চলবে। প্রতিযোগিতা শেষে যে দেশের পয়েন্ট সর্বোচ্চ হবে তারাই বিজয়ী বলে ঘোষিত হবে। ১৩ই জানুয়ারি ভারতের প্রথম খেলা মালদ্বীপের বিরুদ্ধে।
সোনালীর এই উত্থানের বিষয়ে তার কোচ সঞ্জীব বাউরি বলেন এই মেয়ের অসম্ভব জেদ। বাড়ির সবচেয়ে ছোট হয়েও তার স্বপ্ন দুঃস্থ বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো । ফুটবল খেলার সময় তার চোখে মুখে সেই দৃঢ়তার ছাপ বারবার ফুটে ওঠে। তার দুই দিদির বিয়ে হয়েছে, ভাই সংসারের দিকে নজর দিতে পারেনা। তাই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ফুটবলকেই আশ্রয় করেছে সোনালী।
সঞ্জীব বলেন অত্যন্ত “স্কিলফুল প্লেয়ার” সোনালী। তার ফুটবল জীবন নিশ্চিতভাবেই আরও দুর্দান্ত হবে।










