যুবভারতীতে মেসি। ছবি: রাজীব বসু
শহরে এসে পৌঁছলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিয়োনেল মেসি। শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ কলকাতায় পা রাখেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর পর ভারতে এলেন মেসি। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে জমে ওঠে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বর। ভারত ও আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে নিয়ে চিৎকার, জয়ধ্বনি ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ফুটবলপ্রেমীরা। শীতের রাতেও বড়দের সঙ্গে অপেক্ষায় ছিল খুদে সমর্থকরাও।
জানা গিয়েছে, মেসির সঙ্গে কলকাতায় এসেছেন তাঁর ইন্টার মায়ামির সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেস এবং আর্জেন্টিনার ফুটবলার রদ্রিগো ডি’পল। ছিলেন শাহরুখ খানও, যদিও তিনি আলাদা বিমানে ব্যক্তিগত জেটে কলকাতায় আসেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সবাইকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। মেসি কার্গো গেট দিয়ে গাড়িতে চেপে সোজা হোটেলের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছেও ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের পর শনিবার তাঁর ব্যস্ত সূচি। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মিট অ্যান্ড গ্রিট, তার পর ভার্চুয়ালি নিজের মূর্তি উন্মোচন। বেলা ১১টার পর তিনি রওনা দেবেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের উদ্দেশে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা, সেলিব্রিটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ও আলাপচারিতার পর দুপুর ২টোয় কলকাতা ছেড়ে হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেবেন মেসি।
মেসির সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আঁটোসাঁটো। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সহায়তায় প্রায় ২০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকছেন। র্যাফ নামানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা হবে যান চলাচলও।
এদিকে সল্টলেক স্টেডিয়ামের কাছে তৈরি হয়েছে ‘হোলা মেসি ফ্যান জোন’। সেখানে মায়ামির বাড়ির আদলে তৈরি করা হয়েছে মেসির বাড়ির প্রতিকৃতি, যেখানে মেসি ও তাঁর পরিবারের মূর্তিও রাখা হয়েছে। আর্জেন্টিনার তারকাকে এক নজর দেখতে ও বরণ করে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত শহর।
কলকাতার পর হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লি—এই তিন শহর ঘুরবেন মেসি। ‘গোট ট্যুর অফ ইন্ডিয়া’ নামের এই সফরে ফুটবল ম্যাচ, কোচিং ক্লিনিক, সংবর্ধনা ও নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার জন্য শহরে এলেও, লিয়োনেল মেসির আগমনে কলকাতা জুড়ে ফুটবল-উৎসবের আমেজ।










