আহমেদাবাদে শেষ ম্যাচ জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩–১ ব্যবধানে সিরিজে হারাল ভারত। ট্রফি ক্যাবিনেটে যুক্ত হল আরও একটি সাফল্য, সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্লু-প্রিন্ট। হার্দিক পাণ্ডিয়া, সঞ্জু স্যামসন, তিলক বর্মাদের পারফরম্যান্স যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন-আক্রমণে প্রোটিয়াদের ভেঙে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে আসন্ন বিশ্বকাপে তাঁর বড় ভূমিকার। তবে সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তা কাটল না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে।
শেষ টি-টোয়েন্টিতে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত। শুভমান গিলের চোটে সুযোগ পাওয়া সঞ্জু স্যামসন সেই সুযোগ কাজে লাগালেন। অভিষেক শর্মার সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতের শুরুটা ছিল আগ্রাসী। অভিষেক ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হলেও সঞ্জু ২২ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও দু’টি ছক্কা। মাঝখানে স্বপ্নের ফর্মে থাকা তিলক বর্মা ৪২ বলে ৭৩ রান করে ইনিংসকে মজবুত ভিত দেন।
এর পর মঞ্চে আসেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। শুরুটা ছয় দিয়ে, তারপর যেন ঝড়। প্রথম সাত বলে ৩১ রান, জর্জ লিন্ডের এক ওভারে ২৭ রান তুলে নেন তিনি। মাত্র ১৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হার্দিক। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৬৩ রান করে আউট হন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান তোলে ভারত।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাও শুরুটা ভালোই করেছিল। কুইন্টন ডি’কক আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অর্শদীপের এক ওভারে ২৩ রান তুললেন। তবে বরুণ চক্রবর্তীর আঘাতে প্রথম ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। এরপর বুমরাহ এসে ডি’ককের ৩৫ বলে ৬৫ রানের ইনিংস থামিয়ে দেন। ডেভিড মিলার ব্যর্থ, আইডেন মার্করাম ও ডোনোভান ফেরেরাকেও ঘোরালেন বরুণ। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। বুমরাহ পান ২ উইকেট, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে ফেরান হার্দিকও। সব মিলিয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০১ রানেই থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস, ৩০ রানে জেতে ভারত।
তবে এত সাফল্যের মাঝেও চিন্তার কারণ একটাই—সূর্যকুমার যাদবের ফর্ম। এই ম্যাচেও ৫ রানে আউট হয়ে ব্যর্থ হলেন অধিনায়ক। সিরিজ জিতলেও সূর্যর ফর্মে ফেরার অপেক্ষা থেকেই গেল, যা বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় শিবিরে বড় প্রশ্ন হয়েই থাকল।










