Home / খবর / রাজ্য / একশো দিনের কাজের টাকা দ্রুত শ্রমিকদের হাতে পৌঁছানোই লক্ষ্য, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

একশো দিনের কাজের টাকা দ্রুত শ্রমিকদের হাতে পৌঁছানোই লক্ষ্য, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের

কলকাতা: একশো দিনের কাজের (মনরেগা) বকেয়া টাকা শ্রমিকদের হাতে দ্রুত পৌঁছানো নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের মন্তব্য, “যত দ্রুত সম্ভব গরিব মানুষরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পান, সেটাই আদালতের উদ্দেশ্য।” আদালত জানায়, যাঁরা মনরেগার কাজ করেন, তাঁরা সমাজের দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। তাই তাঁদের টাকার ব্যবস্থা করাই আদালতের মূল লক্ষ্য।

এদিন রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্র যাই অভিযোগ করুক না কেন, সবার আগে শ্রমিকদের টাকা দিতে হবে।” তাঁর দাবি, গরিব মানুষের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা কোনওভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।

অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ডিভিশন বেঞ্চে জানান, মনরেগা প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতির তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি প্রয়োজন। কেন্দ্রের দাবি, গোটা দুর্নীতির সঙ্গে রাজ্য প্রশাসন যুক্ত ছিল বলেই রাজ্যের কাছ থেকে প্রকল্পের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছিল এবং মূল অভিযোগ রাজ্যের বিরুদ্ধেই।

এই প্রসঙ্গে আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে এই মামলা করার আসল উদ্দেশ্য কী?” উত্তরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান, এই সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলা ও আরও একটি মামলা একসঙ্গে শোনা হবে। পরে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “অগাস্ট মাস থেকে শ্রমিকরা অপেক্ষা করছেন। অন্তত প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করা হোক। আর কত দেরি করা হবে?” এর জবাবে বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরাও চাই টাকা শ্রমিকদের হাতে পৌঁছাক।” এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি।

উল্লেখ্য, এর আগেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে বকেয়া টাকা কেন্দ্রকে মেটাতে হবে। তা সত্ত্বেও কিছু অমীমাংসিত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে রাজ্য ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। রাজ্যের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র বিভিন্ন শর্ত চাপাচ্ছে। কেন্দ্রের লেবার বাজেটের শর্ত কোনওভাবেই মানা হবে না বলে আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। মনরেগার কাজ ফের শুরু করতে রাজ্য কী ভাবছে, তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “কেন্দ্র অনৈতিকভাবে এই টাকা আটকে রেখেছে। আজ হাইকোর্টের মন্তব্যে স্পষ্ট, গরিব মানুষরা তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটা কোনও দয়া নয়, এটা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, “একশো দিনের কাজের টাকা যাতে গরিব মানুষরা পান, তার জন্য কেন্দ্র বারবার চেষ্টা করেছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টও বলেছে টাকা পৌঁছাতে হবে। তবে একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এটাও স্পষ্ট করেছে, টাকা যেন সঠিক উপভোক্তার কাছেই পৌঁছায়। কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে হিসাবের গরমিলের কারণেই। টাকা নিন, কিন্তু তার সঠিক হিসাবও দিন।”

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *