বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো ঘিরে কালীঘাট এলাকায় যে অশান্তি ছড়ায়, তার জেরেই এই কড়া পদক্ষেপ। ঘটনায় ডেপুটি কমিশনার-সহ মোট চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সাসপেন্ড করা হয়েছে সাউথ ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি ২) সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চন্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে। জানানো হয়েছে, ৫ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, একই ঘটনার প্রেক্ষিতে এর আগেই লালবাজারের তরফে দুই ডেপুটি কমিশনারকে শোকজ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিদ্ধার্থ দত্ত এবং রিজার্ভ ফোর্সের ডিসি মানস রায়। অভিযোগ, ওই দিন রোড শোয়ের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং পুলিশের অনুমতি ছাড়াই বড় জমায়েত কীভাবে হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ভবানীপুরে নির্বাচনী লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রচার ঘিরে উত্তাপ তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোয়ে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। একই সময়ে এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভও চলছিল।
পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন রোড শো কালীঘাট এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে পৌঁছয়। দু’পক্ষের স্লোগান থেকে শুরু হয়ে একসময় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। যার জেরে গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গাফিলতির অভিযোগে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।










