রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বের শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আপাতত ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই শুনানিতে হাজির হননি। তবে যাঁরা শুনানিতে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের জমা দেওয়া নথি যাচাই এখনও চলছে। ফলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে কমিশন।
শনিবার ছিল রাজ্যে এসআইআর শুনানির শেষ দিন। সিইও দফতর সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ শুনানির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কমিশনের হিসাব বলছে, শুনানি শেষে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে। তবে শুনানিতে হাজির হওয়া বহু ভোটারের নথি এখনও যাচাই হয়নি। মোট ১০ থেকে ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য আপলোড হওয়া বাকি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফলে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের বেশির ভাগই শুনানিতে উপস্থিত হননি। আবার যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের জমা দেওয়া নথির মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সন্দেহজনক নথির ভিত্তিতে কিছু নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় দু’ধরনের ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছিল। প্রথমত, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁরা নিজেদের কোনও যোগ দেখাতে পারেননি—এই ‘নো ম্যাপিং’ তালিকার ভোটারদের সশরীরে হাজির হয়ে প্রমাণপত্র দেখাতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগ থাকলেও নামের বানান বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেক ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও), সহকারী ইআরও এবং বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)।
কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল এসআইআর শুনানি। শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে তা পিছিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে এসআইআর শুনানির জন্য প্রায় দেড় কোটি নোটিস জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটার এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ডাকা হয়। শুনানির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ৬ লক্ষ ২৫ হাজার নাম বাদ পড়ার হিসাব মিলেছে। তবে নথি যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা যাবে না বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।










