রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৬ লক্ষ ভোটারের নাম আগের এসআইআর তালিকার সঙ্গে মিলছে না। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এসআইআর প্রক্রিয়ায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬ কোটির বেশি এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। ডিজিটাইজ়ড ফর্মগুলিকে যখন ম্যাপিংয়ের আওতায় আনা হয়, তখনই এই অমিল ধরা পড়ে। কমিশনের অনুমান, ডিজিটাইজ়েশন পুরোপুরি শেষ হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ম্যাপিং বলতে বোঝায়— এ বছরের ভোটার তালিকাকে ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রস্তুত হওয়া শেষ এসআইআর তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। কোন ভোটার বা তাঁর পরিবারের নাম দুই তালিকায় অভিন্ন কি না, তা যাচাই করা হয়। এবার শুধু বাংলাই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুরনো এসআইআর তথ্যও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ বহু মানুষ আগে অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় থাকলেও পরে বাংলায় এসে বসবাস শুরু করেছেন। ফলে তাঁদের তথ্যও প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা জরুরি।
কমিশন জানিয়েছে, নাম মিলছে না মানেই যে সংশ্লিষ্ট ভোটার বাতিল হয়ে যাবেন, তা নয়। যাঁদের নাম বা পারিবারিক সূত্র শনাক্ত করা যাবে, তাঁদের আলাদা কোনও নথি জমা দিতে হবে না। শুধু এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করলেই হবে। তবে যাঁদের সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া যাবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথিপত্র যাচাই করা হবে।
রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৭ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৯৯.৮ শতাংশ। ডিজিটাইজ়েশন হয়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ ফর্মের। কমিশন সূত্রের দাবি, ম্যাপিংয়ের ফল দেখে মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ অমিল পাওয়া যাচ্ছে, তা বিহার বা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় খুব আলাদা নয়। বিজেপি যেখানে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলছে, সেখানে কমিশন বলছে— তথ্য-যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।










