কোলফিল্ড টাইমস: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই বাংলার চার কোটিরও বেশি ভোটার এনুমারেশন ফর্ম পেয়েছেন। গত ৪ নভেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আশা, প্রথম সপ্তাহের শেষেই রাজ্যের ৭.৬ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের কাছে বুথ স্তরের আধিকারিকরা (বিএলও) ফর্ম পৌঁছে দেবেন।
কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে নিযুক্ত ৮০,৮৬১ জন বিএলও রবিবারই প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি ভোটারের কাছে পৌঁছবেন বলে অনুমান। বর্তমান গতিতে সোমবার আরও ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ ভোটারের কাছে ফর্ম পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর অবশিষ্ট ৫০ লক্ষ থেকে এক কোটি ভোটারকে কাভার করা হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল ৪ নভেম্বর শুরু হওয়ার পর সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে ফর্ম বিতরণ শেষ করা। প্রথম চার দিনে তিন কোটি ফর্ম বিতরণ হয়েছে। সপ্তাহান্তে ভোটারদের অনেকেই বাড়িতে থাকবেন, তাই বিএলওরা সহজেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবেন।”
এসআইআর শুরুর আগে প্রশিক্ষণে বিএলওদের জানানো হয়েছিল, ১১ নভেম্বরের মধ্যে সব ফর্ম বিতরণ করতে হবে। এক আধিকারিক বলেন, “এখন পর্যন্ত অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রয়েছে। সব জেলাতেই একই গতিতে কাজ চলছে, কোনও জেলা পিছিয়ে নেই।”
বিএলওদের ফর্ম বিতরণের পাশাপাশি পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত যাচাই করে কাজ সম্পূর্ণ করা যায়। ভোটারদের দেওয়া তথ্য বিএলও অ্যাপে আপলোড করতে হবে এবং স্ক্যান করে পোর্টালে জমা দিতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে খসড়া ভোটার তালিকা।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭,৪৭,২৫,৩০৩টি এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যার ৯৭.৫ শতাংশ।
এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হলেও, কিছু বিএলও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তাঁরা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে চা-দোকান, ক্লাব বা কমিউনিটি হলে ফর্ম বিতরণ করছেন। শনিবার এমন আটজন বিএলওকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে কমিশন। অভিযোগ পাওয়ার পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সব জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম হাতে তুলে দিতে হবে।
এক নির্বাচন কমিশন আধিকারিক বলেন, “সব বিএলওকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ করতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে শোকজ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ফর্ম বিতরণ না করলে বা নষ্ট করলে তা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে।”
অন্যদিকে, পাঁচজন বুথ লেভেল এজেন্টের (বিএলএ) বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তাঁরা বিএলওদের হুমকি দিয়ে তাঁদের কাজ করতে বাধা দিচ্ছিলেন। কমিশন এই পাঁচজন বিএলএ-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।










