সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে কোনও অসুবিধা নেই বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে সব সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হবে, সেগুলির ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলেও এখনই মোট কত নাম বাদ গেল, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব স্পষ্ট হবে না। আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ তারিখের পরেও ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন এবং পরবর্তী প্রকাশিত তালিকাগুলিকেও চূড়ান্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে। ফলে মোট বাদ পড়া নামের নির্ভুল হিসাব পেতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা করা যেতে পারে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর মঙ্গলবার জানায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যে বিদ্যমান ৮০,৬৮১টি বুথই বজায় থাকবে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় বুথ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে না।
কমিশনের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার বুথবিন্যাস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটার সংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারিত না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বহুতল আবাসনের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০টি অতিরিক্ত বুথ সংযোজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, ১২০০-র বেশি ভোটার থাকলে নতুন বুথ গঠন করা হবে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় কতজন ভোটার বাদ গিয়েছেন বা যুক্ত হয়েছেন, তার নির্ভুল তথ্য এখনও মেলেনি। তাই আপাতত আগের বুথ কাঠামোই বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের শেষ দিন। তবে যদি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড ক্যাটেগরি’ সংক্রান্ত যাচাই সম্পূর্ণ না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন ধারাবাহিক ভাবে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে।










