কলকাতা থেকে রওনা হয়েও শেষ পর্যন্ত মাঝপথ থেকেই ফিরতে হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। নদিয়ার তাহেরপুরে প্রশাসনিক কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। দমদম বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দিলেও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় সেখানে নামতে পারেনি কপ্টারটি। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ফের দমদম বিমানবন্দরের দিকেই ফিরে আসতে হয়।
তবে সভা বাতিল হয়নি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে তাহেরপুরের সভায় বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে বিজেপির সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিহারে বিজেপি জঙ্গলরাজ উপড়ে দিয়েছে এবং ২০ বছর পরেও মানুষ আগের চেয়ে বেশি আসন দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এখন পশ্চিমবঙ্গে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ চলছে এবং সেখান থেকে মুক্তি দরকার। মোদীর দাবি, গ্রাম-শহর সর্বত্র মানুষ বলছে, তারা বাঁচতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনি আরও কাজ করতে চান। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের কাছে টাকা, প্রকল্প বা সদিচ্ছার কোনও অভাব নেই। কিন্তু রাজ্যে এমন সরকার রয়েছে, যারা সব কাজে কমিশন চায়। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলার মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে মোদী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস যদি মোদীর বিরোধ করতে চায়, করুক, বিজেপির বিরোধও করুক। কিন্তু কেন রাজ্যের উন্নয়ন আটকে রাখা হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর বক্তব্য, মোদীর বিরোধ করুন, কিন্তু বাংলার মানুষকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।
ডাবল ইঞ্জিন সরকার গড়ার আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, বিজেপিকে সুযোগ দিলে দ্রুত উন্নয়ন হবে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তৃণমূল চুপ করে থাকে এবং তাদের রক্ষাতেই বাংলায় এসআইআরের বিরোধিতা করছে। ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, সেখানে বাম শাসনের অবসানের পর উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাতেও এক সময় বামেদের থেকে মুক্তি মিলেছিল, কিন্তু তৃণমূল বামেদের খারাপ দিকগুলো গ্রহণ করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।










