ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক ও প্রদীপ মজুমদার। ছবি: রাজীব বসু
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। সামনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট। ভোটের আগে এটাই রাজ্য সরকারের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠকের পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়।
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিকে বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় গড়ে তুলতে আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে মার্চ মাসের শুরু থেকেই চাষিদের কাছ থেকে কেজি প্রতি ৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরাসরি আলু কেনার কথাও জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই দুই সিদ্ধান্তের কথা জানান ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক ও প্রদীপ মজুমদার।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলার অবস্থানকে আরও মজবুত করতেই ‘স্কুল মান উন্নয়ন’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশ বহন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক। রাজ্যের ৪৩০টি ব্লকের প্রতিটিতে অন্তত একটি করে ‘মডেল স্কুল’ গড়ে তোলা হবে। পিছিয়ে পড়া ব্লকগুলিতে দুটি করে আধুনিক স্কুল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শুধু ভবনের রং বা সংস্কার নয়, উন্নত পাঠদান পদ্ধতি, আধুনিক গ্রন্থাগার, উন্নত স্যানিটারি ব্যবস্থা—সব কিছুর সামগ্রিক উন্নয়ন করা হবে। গোটা প্রকল্পের উপর নজরদারির জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। সরকারি স্কুলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
অন্য দিকে, এ বছর আলুর ফলন বেশি হওয়ায় বাজারদর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে চাষিদের সুরাহা দিতে রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নির্দেশে ২০২৫-২৬ মরসুমেও এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে। এর আগে পাঁচবার সফলভাবে আলু সংগ্রহ করেছে রাজ্য।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মার্চের শুরু থেকেই কেজি প্রতি ৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে আলু কেনা শুরু হবে। সরকারের এই পদক্ষেপে যেমন বাজারদর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনই ফড়েদের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পাবেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা।









