২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদহের রাজনীতিতে বড়সড় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ফের কংগ্রেসে যোগ দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী কোতওয়ালি পরিবারের সদস্য হিসেবে আবার পুরনো দলে ফিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ালেন তিনি। উল্লেখ্য, মাত্র তিন দিন আগেই তৃণমূলের তরফে তাঁকে মালদহের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছিল।
মালদহ জেলার রাজনীতিতে মৌসম নূরের পরিচিতি নতুন নয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্রী থাকাকালীনই রাজনীতির পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা। তাঁর মা রুবি নূর ছিলেন সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক। ছোটবেলা থেকেই কোতওয়ালির খান চৌধুরি ভবনে থেকে মামা বরকত খান চৌধুরি, আবু নাসার খান চৌধুরি ও আবু হাসেম খান চৌধুরির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে দেখেছেন মৌসম। পারিবারিক সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যই তাঁর পথচলার ভিত্তি।
২০০৮ সালে মায়ের মৃত্যুর পর সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী করে মৌসম নূরকে। সেই নির্বাচনে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন তিনি। ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিধায়ক থাকার পর ডিলিমিটেশনের পর মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে সাংসদ হন। পরবর্তী নির্বাচনেও সাংসদ হিসেবে জয় পান।
তবে ২০১৯ সালে আচমকাই রাজনৈতিক দিক বদলে তৃণমূলে যোগ দেন মৌসম নূর। দলের জেলা সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলান। তাঁর সময়েই বিধানসভা নির্বাচনে মালদায় প্রথম সাফল্য পায় তৃণমূল। কিন্তু মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে ঘাসফুলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মুর কাছে পরাজিত হন তিনি। এবার তৃণমূল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের ফলে ২০২৬ সালের ভোটের আগে মালদহের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে বদলাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।










