বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাইয়ের সভা থেকে তিনি দাবি করেন, বাংলার বাইরে থেকে নাম এনে ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।
এর আগে সোমবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন নির্বাচন কমিশন-এর দফতরে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ফর্ম-৬ জমা দিয়ে সন্দেহজনকভাবে বিপুল সংখ্যক অ-বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। সেই প্রসঙ্গেই মমতার অভিযোগ, “যে নামগুলি বাদ গিয়েছে, সেগুলি এখনও তোলা হয়নি। তার বদলে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান থেকে নাম ঢোকানো হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার মানুষের ভোটাধিকার দখল করতে চাইছে। তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি ৩০ হাজার নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা বাংলার বাসিন্দা নন। SIR প্রসঙ্গে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “SIR মানে সর্বনাশ। সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদেরও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুথ স্তর থেকে নজরদারির নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কারচুপি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, আপিল করলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে সরকার।
অন্যদিকে, চন্দ্রকোণা ও গড়বেতার সভা থেকে কৃষকদের সমস্যাও তুলে ধরেন মমতা। সাম্প্রতিক সময়ে আলুর দাম না পাওয়ার অভিযোগে সরব হয়েছেন চাষিরা। এই ইস্যুতে ভারতীয় জনতা পার্টি তৃণমূলকে আক্রমণ করলেও পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফসল নষ্ট হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে এবং বিমার আওতায় সাহায্য মিলবে। তাঁর সাফ বার্তা, “আলুর ক্ষতিপূরণ চান? তৃণমূলকে ভোট দিন।”
শেষে রাজনৈতিক হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “তৃণমূল এখন সমুদ্র—প্রতিটি ঢেউয়ে বিরোধীদের আছড়ে দেবে।”










