ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ইস্যুতে প্রতিবাদে নামছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুর ২টোয় কলকাতার মেট্রো চ্যানেল-এ ধর্নায় বসার কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ। পরবর্তীতে নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রায় চার লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল দাবি তুলেছে, বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত যেন ভোট ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেয় বাম প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন বিমান বসু-সহ ছয় জন নেতা। তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। এদিন সেখানে উপস্থিত ছিল জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর প্রতিনিধিরাও।
এর আগে বুধবার সিইও দপ্তরে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা পান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পুলিশকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে। এরপর রাত থেকেই সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা ধর্না শুরু করেন। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বাম নেতৃত্বের একাংশ। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বামমনস্ক পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক এবং উপনির্বাচনে কালীগঞ্জে নিহত শিশুর মা সাবিনা ইয়াসমিন।
বাম নেতৃত্বের দাবি, যাঁদের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশন সংশয় প্রকাশ করে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রেখেছে, তাঁদের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করা উচিত নয়। আর যদি ভোট ঘোষণা করা হয়, তবে সন্দেহভাজন ভোটারদেরও ভোটাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।










