ইন্ডিগো-র লাগাতার বিমান পরিষেবা বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারে সভায় যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরেই তিনি অভিযোগ করেন, কোনও প্রস্তুতি বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ (FDTL) নীতি কার্যকর করায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাইলট বা ক্রুদের বিশ্রাম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু নতুন নিয়ম চালুর আগে পরিকল্পনা থাকা উচিত। কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার যাত্রী হেনস্থার শিকার। সরকারকে অনুরোধ, আগে পরিকল্পনা করুন, বিকল্প ব্যবস্থা রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যাতে সেই সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছয়।”
কেন্দ্রের উদ্দেশে আরও তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে মমতা বলেন, “ওরা শুধু নির্বাচন নিয়ে ভাবে, মানুষের সুবিধা-অসুবিধার দিকে নজর দেয় না।” যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, চাইলে যাত্রীরা আদালতে যাওয়ার পথও খোলা আছে বলে মন্তব্য করেন।
গত সাত দিন ধরে ইন্ডিগোর একাধিক উড়ান বাতিল হওয়ায় দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থার পরিষেবা প্রায় বিপর্যস্ত। লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার নেপথ্যে ডিজিসিএ-র FDTL বিধিকেই দায়ী করা হচ্ছিল। পাইলট ও বিমানকর্মীদের নির্দিষ্ট বিশ্রাম ও ডিউটি সংক্রান্ত নতুন নিয়ম নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় কার্যকর হয়।
নতুন নিয়ম কার্যকরের ফলে শিডিউল চালাতে না পেরে ইন্ডিগোর পরিষেবায় জট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ডিজিসিএ তড়িঘড়ি FDTL-এর একটি ক্লজ প্রত্যাহার করে। পাইলটদের বাধ্যতামূলক ৪৮ ঘণ্টা সাপ্তাহিক বিশ্রামের নিয়মে ছুটির সময়সীমা যুক্ত করার ছাড় দেওয়া হয়। নাইট অপারেশন সংক্রান্ত কিছু বিধিও শিথিল করা হয়।
এই গোটা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় নীতিকেই দায়ী করছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা তাঁর মতে “পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তের সরাসরি ফল।”










