একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে প্রকাশিত ইন্টারভিউ তালিকা ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, ‘দাগি’ বা অযোগ্য ঘোষিত কয়েকজনের নামও নাকি তালিকায় রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিল—দাগিদের সম্পূর্ণ পরিচয়সহ নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে। শুধু নাম নয়, অভিভাবকের নাম এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্যও দিতে হবে, যাতে একই নামে থাকা একাধিক ব্যক্তির মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা শুনানিতে জানান, দাগিদের তালিকায় নাম থাকলে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। তবু কেউ ইন্টারভিউ দিতে এলে তার নাম অবিলম্বে বাদ দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে বিচারপতি বলেন, দাগিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতেই বিস্তারিত তথ্যসহ নাম প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
শনিবার রাতেই প্রকাশিত হয় ইন্টারভিউয়ের নতুন তালিকা, আর তার পর থেকেই অভিযোগের স্রোত। অনেক যোগ্য প্রার্থীর নাম নেই, অথচ অযোগ্যদের নাম রয়েছে—এ দাবি তুলে কয়েকজন প্রার্থী আদালতে যান। শুনানিতে এসএসসি-র আইনজীবী জানান, মামলাকারীরা চার ‘দাগি’ প্রার্থীর নাম জমা দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকে। তবে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ—বিশেষভাবে সক্ষমদের ক্ষেত্রে বয়স বা যোগ্যতার ছাড় থাকতে পারে, কিন্তু দাগি হলে সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে মামলাকারীদের আইনজীবীর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দাগিদের তালিকা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেনি কমিশন। তথ্যের অভাবে প্রার্থীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও এসএসসি জানায়, তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়, আদালত চাইলে তারা নাম বাদ দেবে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে আদালতে ফের শুনানি হবে আগামী ৩ ডিসেম্বর।










