শ্রয়ণ সেন
কাশ্মীর উপত্যকায় টানা ভারী তুষারপাতের ফলে বদলাতে চলেছে দেশের আবহাওয়ার চরিত্র। সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে জম্মু-কাশ্মীরের উঁচু পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত হচ্ছে, যা আগামী ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই ঝঞ্ঝার প্রভাব হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডেও পড়েছে, সেখানে বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ২২ ডিসেম্বরের পর পশ্চিমী ঝঞ্ঝা দুর্বল হয়ে সরে গেলে উত্তর ভারতের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে। তখন উত্তর দিক থেকে শুষ্ক ও ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করবে, যা বরফে ঢাকা অঞ্চল থেকে নেমে এসে উত্তর ভারতের সমতল অঞ্চল পেরিয়ে পূর্ব ভারতে ঢুকবে। এর জেরে দ্রুত তাপমাত্রা নামতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বেলায় রোদ থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও, রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে পারে। দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রার এই বড় পার্থক্যই শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ইতিমধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতি অনুভূত হচ্ছে। উপরের স্তরের কুয়াশার কারণে সূর্যের তাপ ঠিক মতো মাটিতে পৌঁছচ্ছে না, ফলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি কম রয়েছে। এর ফলে সারাদিনই শীতের অনুভূতি বজায় থাকছে।
২২ ডিসেম্বরের পর আকাশ পরিষ্কার হলে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও, রাতের দিকে তাপমাত্রা দ্রুত নামবে বলে পূর্বাভাস। পরিষ্কার আকাশে রাতের বিকিরণজনিত শীত আরও বাড়বে।
এই সব কিছুর মিলিত প্রভাবে এ বছর বহুদিন পর কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে কনকনে ঠান্ডার বড়দিন কাটতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। উৎসবের মরশুমে ঠান্ডা রাত ও শীতল ভোরের জন্য প্রস্তুত থাকাই ভালো।










