তথ্যে অসংগতি থাকার অভিযোগে বুধবার থেকে প্রায় ৯৪ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিস পাঠাতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্বে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ডাকার সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশাসনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন। এত কম সময়ের মধ্যে প্রায় এক কোটি মানুষের শুনানি আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করছেন একাধিক আধিকারিক।
উল্লেখ্য, এসআইআর শুনানির প্রথম পর্বে ইতিমধ্যেই বহু ভোটারকে ডাকা হয়েছে। এবার দ্বিতীয় পর্বে আরও ৯৪ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে ভোট পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সূত্রের খবর, ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে ধাপে ধাপে ১,২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আশ্বাস দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
শুনানি প্রক্রিয়ায় পরিযায়ী শ্রমিক, ভিন রাজ্যে কর্মরত ভোটার ও পড়ুয়াদের স্বস্তি দিতে কমিশন বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্য নির্বাচন দফতরের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে— বাংলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মসূত্রে বাইরে থাকা মানুষ ও পড়ুয়ারা সরাসরি শুনানিতে হাজির হতে পারবেন না। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পরিবারের কোনও সদস্য হাজির হলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এছাড়াও রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত ভোটারদের বিষয়েও নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










