কলকাতা: অবশেষে জেলমুক্তি হতে চলেছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সোমবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত তাঁর জেলমুক্তির নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নথি মুখ্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের কাছে পৌঁছনোর পর তা প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষের হাতে গেলে মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিন বছর তিন মাস ১৮ দিন পর মঙ্গলবারই মুক্তি মিলতে পারে পার্থের।
বর্তমানে একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বেশ কিছু মাস ধরে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন সোমবার। আদালতের রায় শুনে তাঁকে হাসতেও দেখা গিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও জেলমুক্তির বিষয়টি জানানো হবে বলে আদালত সূত্রে খবর।
২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কলকাতার নাকতলা এলাকা থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআইও। ইডির তল্লাশিতে পার্থ-ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা নগদ, সোনাদানা ও সম্পত্তি-সহ প্রায় ৬০ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
এর আগে ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান পার্থ। সিবিআইয়ের অন্যান্য নিয়োগ মামলাতেও তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। কেবলমাত্র এসএসসির গ্রুপ সি মামলায় এত দিন তাঁর চূড়ান্ত জামিন মেলেনি। কিন্তু সোমবার সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় জেলমুক্তির আর কোনও বাধা রইল না।
২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রাথমিকে নিয়োগ মামলায় পার্থের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল সিবিআই। সেই চার্জশিটে অয়ন শীল, সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়দের নামও রয়েছে। রাজসাক্ষী হয়েছিলেন পার্থের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য, যার ফলে তাঁর নাম অভিযুক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
একাধিক শুনানিতে পার্থের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন— যখন বাকিরা জামিন পেয়েছেন, তখন কেন পার্থকে দেওয়া হচ্ছে না। সিবিআইয়ের যুক্তি ছিল, তিনি নিয়োগ দুর্নীতির ‘মূল মাথা’। তাই তিনি মুক্তি পেলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ায় আদালত সোমবার তাঁর জেলমুক্তির নির্দেশ দেয়।










