বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে কতজন ভোটারের নাম নিষ্পত্তি হয়েছে বা কতজনের নাম বাদ পড়েছে, সেই পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করেনি কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথভিত্তিকভাবে দু’টি ভাগে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে— একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের নাম এবং অন্যটিতে বাদ পড়া ভোটারদের নাম। ভোটাররা বুথ অনুযায়ী তালিকা ডাউনলোড করে নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন। তবে তালিকা প্রকাশের পরেই প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। বহু ক্ষেত্রে তালিকা ডাউনলোড করা যাচ্ছে না, এমনকি এপিক নম্বর দিয়েও নাম খোঁজা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, রবিবার কমিশন জানিয়েছিল সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরে মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, রাত ৯টা নাগাদ তালিকা প্রকাশিত হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মধ্যরাতের কিছু আগে প্রকাশ করা হয়। যদিও এ বার আগের মতো সামগ্রিক পরিসংখ্যান দেয়নি কমিশন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে প্রায় ৭০০ বিচারক এই তালিকা যাচাই করছেন। কমিশন জানিয়েছে, ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই অনুযায়ী সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ নাম বাদ পড়তে পারে। যদিও বর্তমান তালিকায় সেই সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। কমিশনের তরফে শুধু জানানো হয়েছে, বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ চলবে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি। খসড়া তালিকা ও পরবর্তী সংশোধনের পর প্রায় ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়ে। বর্তমানে চূড়ান্ত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষের কিছু বেশি। এর মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন তালিকা প্রকাশ হলেও পরিসংখ্যান গোপন রাখায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।









