ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। কালীঘাটের বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের অনুরোধের ভিত্তিতেই কমিশন তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। আগামী শুক্রবার ২৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে যোগ দিতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ওই প্রতিনিধিদলে কারা থাকবেন, তাঁদের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে তৃণমূলকে।
তৃণমূল রাজ্যসভা দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ। চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, তারা সর্বদা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় রাজি।
গত কয়েক দিনে পরপর দু’বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মমতা। এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতের অনুরোধও জানান তিনি। অভিযোগ করেন, পরিকল্পনাহীন ভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে একাধিক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। চিঠিতে মমতা এই ঘটনাগুলির উল্লেখ করেন।
সোমবারের চিঠিতে মমতা আরও দুই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতেই কি এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হচ্ছে? সিইও দফতর যে এক বছরের জন্য এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, তা নিয়েও আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, জেলা ও মহকুমার অফিসগুলিতে কর্মী থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে এত লোক নেওয়ার প্রয়োজন কেন?
এ ছাড়াও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ভবনকে ভোটকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন, কমিশনের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। বিভিন্ন অভিযোগে কমিশন কোনও পদক্ষেপ না করায় তার ব্যাখ্যা চাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তার পরের দিনই কমিশন তৃণমূলকে বৈঠকের সময় জানিয়ে চিঠি পাঠাল।
এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যেমন প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে, তেমনই রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ আরও প্রবল হয়ে উঠছে।










