কলকাতা, পাণ্ডবেশ্বর, কুলটি, ধানবাদ-সহ দুই রাজ্যের প্রায় ৪০টি জায়গায় একসাথে ইডি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ভোর ৫টা থেকে। অনুমান কয়লা খনন এবং অবৈধ চুরির আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সম্পূর্ণ চক্রের খোঁজেই বিরাট এই তল্লাশি অভিযান চলছে।
বিশাল কেন্দ্রীয়বাহিনীর উপস্থিতিতে ইডির আধিকারিকেরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে সামিল হয়েছেন। কয়লা ও বালিকারবারীদের অফিসগুলি ঘিরে রেখে কর্মীদের একটি জায়গায় আটক করে রাখা হয়েছে। আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, ডিজিটাল লেনদেনের সাক্ষ্য সমস্ত কিছুই তারা বাজেয়াপ্ত করছেন বলে জানা গেছে।
ইদানিং কালে পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের এলাকাগুলিতে একসঙ্গে ৪০টি জায়গায় অভিযানের মত বড় মাপের ঘটনা আগে ঘটেনি। জানা গেছে, বহু কোটি টাকার এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বাড়ি এবং অফিসেও একসাথে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এদিকে পাণ্ডবেশ্বরের খোট্টাডিহি গ্রামের দোনাপাড়ায় যুধিষ্ঠির ঘোষের বাড়িতে এই অভিযান ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা চলছে। যুধিষ্ঠির ঘোষ আগে কয়লা কারবারের মামলায় জেলে গিয়েছিলেন এবং এখন জামিনে মুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে যুধিষ্ঠির অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি খনন করে পাচারের সঙ্গে যুক্ত।
যদিও ই ডি সূত্রে জানা গেছে পি এম এল এ বা মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট- এর অন্তর্ভুক্ত এই অভিযানে অবৈধ কয়লা খনন এবং পাচারের সঙ্গে সংযুক্ত আর্থিক লেনদেনের পুরো চক্রের হদিশ পেতেই একযোগে বাংলা ঝাড়খন্ডে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। ধানবাদের বেশকিছু কয়লা কারবারের মাথা, কুলটিতে কয়লা কারবারীদের সহযোগী এবং অন্যান্যদের বাড়ি ও অফিসে ভোর থেকে এই তল্লাশিতে এলাকার মানুষের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তেমনই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অফিস ও বাড়িতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তল্লাশি অভিযান ক্রমাগত চলছে। আপাতত এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তর থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।










