বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। প্রতি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে কমিশন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাভিত্তিক স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে এমন বুথগুলিকে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় রুট মার্চ, কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং স্ট্যাটিক ডিউটির মতো একাধিক কৌশল প্রয়োগ করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণ আরও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হবে।
জেলা ভিত্তিক বাহিনী মোতায়েনের একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতায় প্রায় ২৮৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে পারে। প্রথম দফায় ২৫৬৯ এবং দ্বিতীয় দফায় ২১৪৯ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদে ৩০০-র বেশি কোম্পানি বাহিনী থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮৬, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৮১, মালদহে ১৮৬, কোচবিহারে ১৫০, বাঁকুড়ায় ২১৩ এবং বীরভূমে ১৮৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমানে ২৫৬, হুগলি গ্রামীণে ১৯৮ এবং ডায়মন্ড হারবার এলাকায় ২১০ কোম্পানি বাহিনী থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন চলাকালীন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রতি নির্বাচনে প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়ে। সেই সব অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ অভিযোগ সেল গঠন করা হচ্ছে। আপাতত ন’জন আধিকারিক নিয়োগ করা হবে, যাঁদের মধ্যে ছ’জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার থাকবেন। অভিযোগ পাওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যেই নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
এ ছাড়াও, প্রায় ২০ হাজার ভোটার কার্ড ফেরত আসার বিষয়টি নিয়েও তৎপর হয়েছে কমিশন। পোস্ট অফিস তিন বার চেষ্টা করেও যেগুলি বিলি করতে পারেনি, সেগুলি এবার বুথভিত্তিকভাবে যাচাই করা হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের মাধ্যমে সরাসরি তদন্ত করে দেখা হবে কেন ওই ভোটাররা কার্ড গ্রহণ করেননি। সব মিলিয়ে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।









