Home / খবর / রাজ্য / উড়ো হুমকি-মেলে বোমাতঙ্ক, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক আদালতে তল্লাশি

উড়ো হুমকি-মেলে বোমাতঙ্ক, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক আদালতে তল্লাশি

আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্ফোরণ—এমনই উড়ো হুমকি-মেল পেয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যের একাধিক আদালতে। কলকাতা থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত, হুগলির চুঁচুড়া আদালত, ব্যাঙ্কশাল আদালত , বাঁকুড়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলা আদালত—সর্বত্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। আদালত চত্বর ফাঁকা করে দিয়ে পুলিশকুকুর ও ধাতব সন্ধানযন্ত্র নিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। কোথাও এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশের পর বিচারকদের বড় অংশই এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। এই হুমকি-মেলের সঙ্গে সেই কাজের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, বিচারকদের সব রকম সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীয়ূষ পাণ্ডে জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারও। তিনি বলেন, কোথা থেকে এই মেল পাঠানো হয়েছে, তা খুঁজে বার করতে পুলিশের সাইবার শাখা সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ মুখ্য বিচারকের কাছে একটি মেল আসে। তাতে দাবি করা হয়, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ আধিকারিকরাও। এক আইনজীবী জানান, একটি জামিনের আবেদনের শুনানি চলাকালীনই বিচারক মেলের কথা জানান, তার পরেই শোরগোল পড়ে যায়।

কিছু ক্ষণের মধ্যেই কলকাতার নগর ও দায়রা আদালত এবং দুর্গাপুর আদালতেও একই ধরনের হুমকি-মেল আসে। আতঙ্কে অনেকেই আদালত চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে যান। সর্বত্র তল্লাশি চালানো হলেও এখনও পর্যন্ত কিছু মেলেনি।

হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও একই ঘটনা ঘটে। জেলা বিচারকের কাছে পাঠানো মেলে বিস্ফোরকের উল্লেখ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ শাখা আদালতে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। ধাতব সন্ধানযন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়। সেখানেও কিছু সন্দেহজনক পাওয়া যায়নি। এক আইনজীবীর মতে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজকে কেন্দ্র করে কারও স্বার্থে আঘাত লাগায় এমন কাজ হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আতঙ্ক ছড়াতেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা জানতে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *