আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে ইডির হানার পর রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ল রাজ্যে। ঘটনার পরদিনই মতুয়াগড়ে গিয়ে একই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি, ইডি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহেরপুরের সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “তৃণমূলের হয়ে মানুষকে সাহায্য করার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত সমস্যায় সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়। সেই কাজ করার অপরাধেই ইডি পাঠিয়ে রেইড করানো হয়েছে। একদিকে ইডি দিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে এসআইআরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটাই বিজেপির ফর্মুলা।”
সভা থেকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে অভিষেক বলেন, “তোমাদের কাছে সব আছে, কিন্তু মানুষ নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু নেই, কিন্তু মানুষ আছে। গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষই। অমিত শাহ ভোট দেবে না, নরেন্দ্র মোদী ভোট দেবে না, মিডিয়াও ভোট দেবে না। ভোট দেবে শ্রমিক-কৃষক-মা-বোনেরা। এমন জবাব দেওয়া হবে, যাতে ওদের অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা শান্তনু ঠাকুরকেও নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, “ইসি দিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া আর ইডি দিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করাই বিজেপির লক্ষ্য। তোমরা ইডি, সিবিআই, কেন্দ্রীয় বাহিনী, মিডিয়া, ইনকাম ট্যাক্স—সব ব্যবহার করো। কিন্তু বাংলার মানুষ দিল্লির জমিদারদের কাছে মাথা নত করবে না।”
এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক হুঁশিয়ারি দেন, “আজ আওয়াজ তুলতেই হবে। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে, না হলে মোদী গদি ছাড়ো, অমিত শাহ গদি ছাড়ো। আর শান্তনু ঠাকুরকেও দূর হতেই হবে।” সভা থেকে তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, আইপ্যাক ও এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রাস্তায় আরও জোরালোভাবে নামতে চলেছে তৃণমূল।










