গুণমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার তৈরি মোট ৪৫টি ওষুধের নির্দিষ্ট ব্যাচ। এই সংক্রান্ত তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তালিকায় আবারও জায়গা করে নিয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন, যা গত বছর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে এই ওষুধগুলির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলি কলকাতা ও ভিন্রাজ্যের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতেই ব্যর্থ ব্যাচগুলির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি ০৩বি৩৯১১ ব্যাচের রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল অসমের গুয়াহাটির একটি ল্যাবরেটরিতে।
এ ছাড়াও রাজ্যের আরও চারটি সংস্থার তৈরি ওষুধের নির্দিষ্ট ব্যাচ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাওড়ার উলুবেড়িয়ার ‘লাইফ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তৈরি ক্রোমোস্ট্যাট ইঞ্জেকশন, হাওড়ার জগাছার ‘ডায়মন্ড ড্রাগস’-এর ড্রায়েড অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড জেল, কলকাতার ‘সানি ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর তৈরি পটাশিয়াম ক্লোরাইড এবং ‘ক্যাপলেট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর তৈরি ওরাল রিহাইড্রেশন সল্টস (ওআরএস)। এই চারটি ওষুধের নমুনাই কলকাতার ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।
তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের বাইরে গুজরাত, হিমাচল প্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যের সংস্থার তৈরি অ্যান্টিবায়োটিক, কাশির সিরাপ ও অন্যান্য ওষুধও রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ এই ব্যাচের ওষুধ আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি যেগুলি ইতিমধ্যেই বাজারে পৌঁছে গিয়েছে, সেগুলি দ্রুত তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর স্যালাইন-কাণ্ডের পর ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস’-এর তৈরি রিঙ্গার্স ল্যাকটেট রাজ্যের হাসপাতালে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। মজুত থাকা স্যালাইন দ্রুত সরিয়ে ফেলতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে সেই সংস্থার একটি ব্যাচ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ওষুধের গুণমান ও নজরদারি নিয়ে।










