Home / খবর / দেশ / ২৪ ঘণ্টায় দুই বিএলও-র মৃত্যু মধ্যপ্রদেশে! এসআইআর চাপকেই দোষারোপ পরিবারের

২৪ ঘণ্টায় দুই বিএলও-র মৃত্যু মধ্যপ্রদেশে! এসআইআর চাপকেই দোষারোপ পরিবারের

এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে উদ্বেগ শুধু বাংলায় নয়—এবার তার ছাপ পড়ল মধ্যপ্রদেশেও। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুই বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) মৃত্যুতে সেখানকার প্রশাসন থেকে শিক্ষা মহল—সব জায়গায় শোরগোল শুরু হয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, কড়া ডেডলাইন এবং সাসপেন্ড হওয়ার আতঙ্কই কেড়ে নিল দুইজন স্কুল শিক্ষকের প্রাণ।

প্রথম ঘটনাটি রাইসেন জেলার মন্দিদীপ এলাকায়। মৃত রমাকান্ত পাণ্ডে, পেশায় স্কুল শিক্ষক, দায়িত্বে ছিলেন বিএলও হিসেবে। তাঁর স্ত্রী রেখা পাণ্ডের অভিযোগ, এসআইআরের কাজ সময়মতো শেষ করতে না পারার ভয়েই ভেঙে পড়েছিলেন রমাকান্ত। ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় টানা চার রাত তিনি ঘুমোতে পারেননি। রাতদিন ফোনে এসআইআরের আপডেট চাইত প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতের অনলাইন মিটিং চলাকালীনই সংজ্ঞা হারান তিনি। তারপর আর জ্ঞান ফেরেনি।

এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু হয় দামোহ জেলার ৫০ বছর বয়সি শিক্ষক সীতারাম গোঁদের। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, অসুস্থতার জন্য তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি—প্রচণ্ড মানসিক চাপই প্রাণ নিয়েছে তাঁর। সীতারামের সহকর্মীরা জানান, ১৩০০ ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করে আপলোডের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর, কিন্তু কাজ প্রায় শুরুই হয়নি। এই কারণেই ভয় ও চাপ বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার এনুমারেশন করতে করতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে, শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয়।

এর আগে মধ্যপ্রদেশের আরও এক বিএলও, শিক্ষক ভুভন সিং চৌহানের মৃত্যু হয়েছিল একই পরিস্থিতিতে। কয়েকদিন আগেই তাঁকে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পরিবার তখনও অভিযোগ করেছিল, এসআইআরের চাপই তাঁর মৃত্যুর কারণ।

শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গেও একই আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে বিএলওদের। এসআইআরের চাপে আত্মহত্যা-সহ একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যে। সম্প্রতি তিনজন বিএলও-র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনকে।

পড়তে পারেন: বিএলও-দের মৃত্যু ও মানসিক বিপর্যয় কি গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসাবে স্বীকৃতি পাবে?

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *