মহারাষ্ট্রে ফের খুন হলেন পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিক। নিহত সুখেন মাহাতো (নাম পরিবর্তিত নয়) পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে তিনি পুণেতে থাকতেন। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুখেনের মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের দাবি, সুখেনই ছিলেন তাঁদের একমাত্র রোজগেরে সদস্য।
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি লেখেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে তিনি “মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত”। মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও লেখেন, “এই শোকার্ত সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সুখেনের পরিবারের পাশে রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।” পাশাপাশি, ভাষা ও পরিচয়ের কারণে হামলার অভিযোগকে “ঘৃণ্য অপরাধ” বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্র-সহ বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত মাসেও মহারাষ্ট্রে কাজ করতে যাওয়া এক বাঙালি শ্রমিক খুন হন বলে অভিযোগ। সেই ক্ষেত্রেও ভাষা নিয়ে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে নতুন করে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির উপরেই হত্যার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।










