দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে উদ্বেগের আবহে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়েছেন, কিছু মানুষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। এ ধরনের কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কালোবাজারি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বের বহু দেশের উপর পড়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করছে। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমি রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না, তবে এ ধরনের আচরণে তাঁরা নিজেদের মুখোশ খুলে দিচ্ছেন এবং দেশের ক্ষতি করছেন।”
কালোবাজারি নিয়েও কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি কালোবাজারি রুখতে রাজ্য সরকারগুলিকে নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানান মোদী।
পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “বিশ্ব এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। তবে ভারত নিজের ছন্দ বজায় রেখেছে। দেশের লক্ষ্য একটাই— উন্নত ভারত গঠন।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্য প্রান্তে যুদ্ধ চললেও তার প্রভাব যাতে দেশের সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, সে দিকেই নজর রাখছে সরকার। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, কোভিড মহামারির মতো এই সঙ্কটও ভারত সফল ভাবে মোকাবিলা করবে।
এদিকে, রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ স্বাভাবিক রাখা নয়াদিল্লির কাছে সর্বাধিক অগ্রাধিকার বলে জানান মোদী। ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে—এই বার্তা পুনরায় তুলে ধরে তিনি সংঘাত মেটাতে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি ও আলোচনার পথেই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।









