Home / খবর / দেশ / পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তিত ভারত, নৌ সুরক্ষায় আমেরিকার সহায়তা চাইছে নয়াদিল্লি

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তিত ভারত, নৌ সুরক্ষায় আমেরিকার সহায়তা চাইছে নয়াদিল্লি

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতে আসা তেলবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সহায়তা চাইছে নয়াদিল্লি। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার নৌ সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সরকার চাইছে না পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার প্রভাব ভারতের জ্বালানি বাজারে পড়ুক। কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও খনিজ তেল ছাড়াও তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে। এরপরই জানা যায়, ভারতও এই বিষয়ে আমেরিকার সহায়তা চাইছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। পাশাপাশি দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। তাই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে আবারও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত। উল্লেখ্য, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমি দেশগুলি রুশ তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সময় তুলনামূলক কম দামে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছিল ভারত। যদিও সম্প্রতি আমেরিকার চাপ ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কিছুটা কমিয়েছিল ভারতীয় সংস্থাগুলি।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস আমদানিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আলজেরিয়া এবং আবু ধাবির একাধিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অস্থির থাকলে দেশের জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *