ছবি: রাজীব বসু
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আবহে দেশে রান্নার গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজ্যে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে দেরি এবং বুকিংয়ের চাপ বাড়ায় বাজারে কার্যত হাহাকারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, দেশে আপাতত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।
কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ভারতে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসসহ মোট জ্বালানির মজুত মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মতো সরবরাহ সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে দেশের কৌশলগত জ্বালানি ভাণ্ডারের অধীনে থাকা সংরক্ষণাগারে প্রায় ৯ থেকে ১০ দিনের জ্বালানি মজুত রাখা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ও রিফাইনারিগুলির নিজস্ব গুদাম এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরও প্রায় ৬৪ থেকে ৬৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকে।
এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার তেল সংস্থাগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে একটি সিলিন্ডার বুক করার ২১ দিনের মধ্যেই পরবর্তী বুকিং করা যেত, এখন সেই ব্যবধান বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে মজুতের উপর চাপ কমবে এবং কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৩ কোটিরও বেশি পরিবার রান্নার গ্যাস ব্যবহার করে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব দ্রুত বাজারে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের দাবি, বর্তমানে দেশে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সংকট না থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন অস্থির থাকলে জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।









