বিহারে ভোট-পরবর্তী রাজনীতি এবার এক অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-কে ছাড়াই সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। ফলাফল বলছে, বিজেপি ও তার অন্য সহযোগীরা মিলিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার খুব কাছাকাছি, মাত্র পাঁচটি আসন দূরে।
১৪ নভেম্বর ঘোষিত ফলাফলে এনডিএ-র আসন বণ্টন এ রকম—
বিজেপি ৮৯,
জেডিইউ ৮৫,
চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি (আর) ১৯,
জিতন রাম মাঁঝির হ্যাম ৫,
উপেন্দ্র কুশওয়ারার আরএলএম ৪।
নীতীশকে বাদ দিলে বিজেপির কাছে সমর্থন দাঁড়াচ্ছে ১১৭-এ—বিজেপি ৮৯ + এলজেপি (আর)১৯ + হ্যাম ৫ + আরএলএম ৪। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২২টি আসন। অর্থাৎ আরও ৫ জন বিধায়ক পেলেই বিজেপি এককভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি পূরণ করা বিজেপির পক্ষে খুবই সহজ—কংগ্রেস, বামপন্থী দল বা বিএসপি–র ১-২ জন বিধায়ক এলেই সংখ্যার হিসাব মিলবে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—নীতীশ কুমারের ভূমিকা ভবিষ্যতে কী হবে? কারও কারও মতে, বিজেপি রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারদর্শী। পরিস্থিতি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, নীতীশ যদি সরেও দাঁড়ান, বিজেপি বিরোধী শিবির ভেঙে সরকার গঠনে সক্ষম।
যদিও এনডিএ-র মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়। অমিত শাহ জুন ও অক্টোবরের একাধিক বক্তব্যে নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেছেন। নভেম্বরেও তিনি জানান, জয়ের পর নীতীশই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। তবে বিজেপির বিশাল আসন সংখ্যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, যদি নীতীশ মহাগঠবন্ধনে যোগ দেন, তবে জেডিইউ-র ৮৫, আরজেডি ২৫, কংগ্রেস ৬, বামপন্থী ৩ এবং অন্যান্য ৭—মোট ১২৬টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা সম্ভব। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে তার নিজের দলের ভিতেই ভাঙনের ঝুঁকি থাকছে।










