ছবি: শ্রয়ন সেন
কেন্দ্রের “কৃষকবিরোধী” ও “শ্রমিকবিরোধী” নীতির প্রতিবাদে ডাকা দেশব্যাপী ভারত বন্ধে বৃহস্পতিবার কেরলে জনজীবন কার্যত থমকে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা গাড়ি আটকে দেন, ফলে প্রধান সড়কগুলিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই বন্ধের ডাক দেয়। তাঁদের দাবি, শ্রমবিরোধী কোড প্রত্যাহার করতে হবে এবং মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (এমজিএনআরইজিএ) আগের মতো চালু রাখতে হবে। ইউনাইটেড ফার্মার্স ফ্রন্ট, কৃষক-শ্রমিক সংগঠন এবং সিপিআই(এম) ও সিপিআই-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এই বন্ধকে সমর্থন জানায়।
কেরলে কেএসআরটিসি বাস, বেসরকারি বাস, অটোরিকশা ও ট্যাক্সি রাস্তায় নামেনি। কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়িও চলাচল করতে পারেনি। কোচির এক দৈনিক মজুর লিজা জয় সংবাদ সংস্থার কাছে বলেন, “সিটু কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করেছিলেন, ব্যক্তিগত গাড়িও যেতে দেননি। আমি কাজে যেতে পারিনি।”
তবে কোচিতে সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ ছিল। অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকলেও এবং গণপরিবহণ স্তব্ধ থাকলেও কয়েকটি রেস্তোরাঁ খোলা ছিল এবং কোচি মেট্রো পরিষেবা চালু ছিল।
ওয়ানাড় জেলায় কিছুটা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। বন্ধ সমর্থকেরা একটি লরিচালককে গাড়ি থামাতে বলেন। তিনি অস্বীকার করলে বচসা বাধে। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বিক্ষোভকারীরা লরিটিকে এগোতে দেননি বলে অভিযোগ।
তিরুবনন্তপুরমের থাম্পানোোর কেএসআরটিসি ডিপোতে একটি বাস পৌঁছতেই সেটি আটকে দেওয়া হয়। পালাক্কাড় ও চিত্তুরের ডিপোগুলিতে বন্ধ চলাকালীন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কেবলমাত্র মধ্যরাতের আগে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলি চলতে দেখা যায়।
এদিকে, তামিলনাড়ুর থুথুকুড়িতেও সিটু কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় অবকাঠামো মন্ত্রক এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প প্রত্যাহার করতে হবে।










