বার্নপুর: স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড বা সেলের চেয়ারম্যান (সিএমডি) অমরেন্দু প্রকাশ শনিবার বার্নপুরের সেল আইএসপি বা ইস্কো কারখানা ( স্টিল প্ল্যান্ট) পরিদর্শন আসেন। এদিন সকালে প্ল্যান্ট পরিদর্শনের পরে তিনি আইএসপির স্বীকৃত পাঁচটি ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠন প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠক করেন। সেল চেয়ারম্যান শ্রী প্রকাশকে স্বাগত জানানো হয় শ্রমিক সংগঠনে তরফে।
তিনি এদিনের বৈঠকে ইউনিয়ন নেতাদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ও তাদের দাবির কথা শুনেছেন। তাদেরকে সেল চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই কোম্পানিটি আমারও নয়, আপনারও নয়। এটা আমাদের সকলের। আমরা লাভ পকেটস্থ করার জন্য কারখানা চালাচ্ছি না ব্যবসা করছি না। যাই হোক না কেন, তা প্রকাশ্যে আসে। সেলের চেয়ারম্যান বলেন, কারখানা আধুনিকীকরণ বা সম্প্রসারণ প্রকল্পের উপর মনোনিবেশ করতে হবে। তারজন্য সবার সহযোগিতা চান। তিনি শ্রমিক সংগঠনকে আশ্বাস দিয়েছেন যে কর্মীদের সুযোগ সুবিধায় কিছু কম হবে না। লাভ বাড়ার সাথে সাথে কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা, হাসপাতাল, শিক্ষা এবং সুরক্ষায় ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। তবে অমরেন্দু প্রকাশ সেল হাসপাতালগুলির বেসরকারীকরণের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। তার আশ্বাস কোন তাড়াহুড়ো করে বেসরকারীকরণ করা হবে না। বৈঠকে ইনটাক, সিটু, এইচএমএস, আইটাক ও বিএমএসের নেতারা বকেয়া বেতন, ঠিকাদার শ্রমিকদের হ্রাস, দুর্ঘটনা বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, স্কুল ও হাসপাতালের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নেতারা বলেন, কারখানায় উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু কর্মী কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদার শ্রমিকদের ২০ শতাংশ কমানো কর্মীদের উপরে আরো চাপ বাড়াচ্ছে।
ইনটাকের সভাপতি হরজিৎ সিং বলেন, সেল আইএসপি আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। আমরা সকলেই সহযোগিতা করবো। কিন্তু কর্মীরা ৩৯ মাস ধরে তাদের বকেয়া বেতন পাননি। উৎপাদন ইনসেনটিভ ও মজুরি সংশোধনও মুলতুবি রয়েছে। হাসপাতাল উন্নত করা, শহরে কর্মীদের জন্য নতুন কোয়ার্টার নির্মাণ এখনও শুরু হয়নি। স্কুলগুলিকে বেসরকারীকরণ করা হচ্ছে। এইসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেল আইএসপির ডিআইসি সুরজিত মিশ্র, ইডি (এইচআর) ইউপি সিং, ইনটাকের বিপ্লব মাঝি, সিটুর সৌরেন চট্টোপাধ্যায়, প্রতীক গুপ্তা, বিএমএসের সঞ্জিত প্রসাদ , আইটাকের আরএন সিং, এইচএমএসের মমতাজ আহমেদ সহ অন্যান্যরা।










