রান্নাঘরের পরিচিত মসলা হলেও জিরের স্বাস্থ্যগুণ অপরিসীম। স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করা, শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা—সব ক্ষেত্রেই জিরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সকালে খালি পেটে জিরে ভেজানো জল পান করেন, কারণ এটি বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদও বলছে, জিরে ভেজানো জল শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখে এবং বিভিন্ন উপকার এনে দেয়।
জিরা ভিজিয়ে যে পানীয় তৈরি হয়, তা শুধু পেটের সমস্যা কমায় না, বরং শরীরের জন্য বহুমুখী উপকার বয়ে আনে। বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায়ও এর কার্যকারিতা স্বীকৃত। জিরে ভেজানো জলের কিছু উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হল।
জিরে ভেজানো জল বিপাক বাড়িয়ে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে বাধা দেয়। এতে থাকা থাইমোকুইনোন নামের যৌগ অন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং হজমশক্তি উন্নত করে। তাই ওজন কমানোর পথে এটি বড় সহায়ক। একই সঙ্গে জিরা প্রাকৃতিক আয়রনের চমৎকার উৎস। রক্তে আয়রনের ঘাটতি, ক্লান্তি বা অ্যানিমিয়ায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য জিরে ভেজানো জল অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি আয়রন শোষণ বাড়ায়।
শরীর ডিটক্স করতেও জিরে ভেজানো জল কার্যকর। এটি লিভারের এনজাইম বাড়িয়ে শরীরের স্বাভাবিক পরিশোধন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের দূষিত পদার্থ কমিয়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও জিরে ভেজানো জল ভূমিকা রাখতে পারে। ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে—তবে ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্ট্রেস কমানো ও ঘুমের সমস্যা দূর করতেও জিরা উপকারী। এতে থাকা মেলাটোনিন ও স্নায়ু শিথিলকারী যৌগ রাতে গ্রহণ করলে মন-শরীরকে শান্ত করে ঘুমের মান উন্নত করে। এছাড়া জিরায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা হাড়ের ব্যথা বা ফোলা কমাতে উপকারী হলেও কোনও রোগের চিকিৎসা নয়—শুধু উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ত্বকের যত্নেও জিরে ভেজানো জল কার্যকর। এটি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে, প্রদাহ কমায় ও ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে। ফলে ব্রণ কমে এবং ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
সব মিলিয়ে, জিরে ভেজানো জল একটি সহজ, সুলভ ও বহু উপকারী পানীয়। তবে কোনও গুরুতর অসুস্থতায় শুধু ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।










