Press "Enter" to skip to content

‘শরণার্থী আর অনুপ্রবেশকারীর তফাত জানেন না’, সিএএ নিয়ে মমতাকে পাল্টা নিশানা অমিত শাহের

নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) সংক্রান্ত কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছে বিরোধীরা। অন্য দিকে, সরকার স্পষ্ট ভাবে বলছে, যে যাই করুক না কেন, এই আইন প্রত্যাহার করা হবে না।

এরই মধ্যে আজ, বৃহস্পতিবার একটি সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিএএ-তে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ জানিয়েছেন। তবে, তিনি বলেছেন, তাঁরা যদি এখনও ভারতীয় নাগরিকত্ব চান, তা হলে সাংবিধানিক উপায়ে এর জন্য আবেদন করতে পারেন। সিএএ-তে কেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, মুসলমানরা সিএএ-তে অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ ইসলামিক রাষ্ট্র। তাহলে সেখানে মুসলমানরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হবেন কী ভাবে?

উল্লেখ্য, সিএএ-তে বলা হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে এ দেশে আশ্রয় চান, তা হলে তা দেবে ভারত। কিন্তু সিএএ-তে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্তদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী দলগুলি।

সিএএ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। মমতা বলেছিলেন যে তিনি বাংলায় সিএএ কার্যকর হতে দেবেন না। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার সভায় সিএএ-র বিরোধিতা জানিয়ে মমতা বলেন, “সিএএ একটা ভাঁওতা। বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। সিএএ করতে দেব না। আমার জীবন দিতে তৈরি। কিন্তু মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।’ তাঁর কথায়, ‘ভোটের জন্য ধাপ্পা দিচ্ছে, ভাঁওতা দিচ্ছে। ভোটের আগে প্রতারণা করে নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। সিএএ নিয়ে কেন্দ্রের ঘোষণা বৈধ কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।”

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধীরাও জানে যে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ক্ষমতায় আসছে না। সিএএ আইনটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার এনেছে, এটি বাতিল করা অসম্ভব। নাগরিকত্ব একটি কেন্দ্রীয় বিষয় এবং কোনো রাজ্য সরকার সিএএ বাতিল করতে পারে না। তাই বিরোধীরা শুধু বলার জন্যই এ সব কথা বলে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন না, কাকে শরণার্থী আর কাকে অনুপ্রবেশকারী বলে।”

More from দেশMore posts in দেশ »

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *