Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / দীপাবলির বিশ্ব স্বীকৃতি ও আতশবাজির রোমাঞ্চকর ইতিহাস

দীপাবলির বিশ্ব স্বীকৃতি ও আতশবাজির রোমাঞ্চকর ইতিহাস

আতশবাজির ইতিহাসের পাতা ওল্টালে বেরিয়ে আসে চিনের বাঁশ পোড়ানো থেকে শুরু করে সন্ন্যাসী লি তিয়ানের বারুদ আবিষ্কারের চমকপ্রদ সব তথ্য। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

খবর

খবরে দেখলাম-পড়লাম। দীপাবলি উৎসবকে ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি। ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ (আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য)-এর তালিকায় জায়গা করে নিল ভারতের দীপাবলি উৎসব। একবাক্যে হিমালয়ান প্রাপ্তিযোগ। শুধু ঘোষণার অপেক্ষা- সঙ্গে সঙ্গে বাজপাখির ছোঁ। ওটা আমার-আমার আমল যে, স্তাবকরা বলে ফেলে তা বটে তা বটে ঠিক। সে যাই হোক তবে বাজির উৎস ভারতের মাটিতে মোটেই নয়। ইতিহাস ভিত্তিক তথ্য অন্তত তাই বলে।

মজার ঘটনা

আবিস্কারের পরীক্ষা-নিরিক্ষায় অনেক সময় চমকপ্রদ ঘটনা ম্যাজিক লাইক কাজ করে। আবিস্কারের ভাবনা-চিন্তায় রসদ জোগায়। এমনই এক ঘটনার ঘটায় বাজি জন্ম নিল। কিন্তু মানুষ হঠাৎ কী মনে করে আগুন জ্বালিয়ে একগোছা সরু ফাঁপা বাঁশ এদিক-ওদিক করে সেঁকতে লাগল। খানিক বাদেই যেন বিস্ফোরণ ঘটল। একনাগাড়ে পটকা ফাটার আওয়াজে চারিদিকে তুলকালাম। সময়কাল বিসিই, অর্থাৎ সাধারণ যুগের আগে, যা যিশু খ্রিস্টের জন্মের আগে। কাণ্ডটা ঘটেছিল চিনে, ঘটায় চিনারা। ফলে পাঁচ কান হতে সময় লাগেনি। পর্যটকেরা সঙ্গে নিল ফাঁপা বাঁশের গোছা, যেখানে নৌকা ভিড়ছে বাঁশ পোড়ানো অবধারিত, পটকা ফাটা আওয়াজে এলাকা সরগরম। ভ্রমণকারীরা একঢিলে দুই পাখি মারল, যেমন বণ্যপ্রাণীরা ধারেকাছে ঘেঁষবে না এবং একই সঙ্গে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে যাতে ভাগ্যের বিরূপতা কেটে যায়।

প্রচলিত কাহিনি

সত্য-মিথ্যা না জানলেও প্রতিষ্ঠিত তথ্য ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চাইনিজ রেকর্ডের জোরালো দাবি, বাজির আবিস্কারক চিন। লি তিয়ান নামধারী এক সন্ন্যাসী যেহেতু ফাঁপা বাঁশে বারুদ ঠেসে পুরে পটকার আওয়াজ গগনবিদারী করেছিলেন বলে। যেখানে স্বয়ং সন্ন্যাসীও সরাসরি জড়িত আর যাইহোক মিথ্যাচার…রামো রামো…বালাইষাট। সাত ও দশ শতকের মাঝামাঝি কোনো একসময় হুনান প্রদেশ বন্যা ও খরার কবলে প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। তখন ওই দুর্যোগে সন্ন্যাসী মহারাজ তাঁর তৈরি আতশবাজির সাহায্যে যাবতীয় মন্দ-আত্মা বা পিশাচীয় তাণ্ডব দূর করেন।

হুনান জনপদ রক্ষা পায়। হুনান প্রদেশে এখনও তাঁর মূর্তি সসম্মানে বিরাজিত। প্রতিবছর স্থানীয়রা মূর্তির পাদদেশে তাঁদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে চলেছেন।

অবশেষে

এর পর সময়ের তালে তাল মিলিয়ে বারুদ-আতশবাজি সিল্করুট ধরে ভারত ও তার বাইরে পৌঁছে যায়। জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে এবং সাধারণ মানুষ লুফে নেয়। একটাই বক্তব্য, কারা আনল, কারা উৎসব করছে সব অর্থহীন, এই নিয়ে অহেতুক ঢুঁসোঢুঁসি নিতান্ত ছেলেমানুষি। মানুষ জ্ঞান অর্জন করেছে, মানুষ আলোয় আলোকিত হয়েছে, এত তো অপরিসীম প্রাপ্তি। আমি-তুমি-আমরা নই। বিশ্ব পরিবার।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *