Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / সমতল বিশ্বের গোলকধাঁধা, ‘ঘ্যাচাংফু’ হওয়ার আগে জানুন নতুনকে শেখার মন্ত্র

সমতল বিশ্বের গোলকধাঁধা, ‘ঘ্যাচাংফু’ হওয়ার আগে জানুন নতুনকে শেখার মন্ত্র

প্রযুক্তি আর বিশ্বায়নের জাঁতাকলে বিশ্ব আজ টমাস ফ্রিডম্যানের সেই ‘ফ্ল্যাট ওয়ার্ল্ড’ বা সমতল পৃথিবী। এখানে টিকে থাকার শর্ত একটাই—পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে অনবরত ‘শিখতে শেখা’র (Learn how to learn) প্রক্রিয়া জারি রাখা। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

মন যে আমার

না-না কেমন কেমন করলে চলবে না। তুমি ব্যাগড়বাই করলে আমি কাত। তোমার-আমার ইন্টু-বিন্টু ইয়ে মানে সম্পর্ক সাতপাকে বাঁধার উপরে। মন তোমাকে ছুটতে বারণ করার সাধ্য নেই। ছোটাই তোমার চরিত্র। তাই মিনতি করছি আমাকে বাঁচাও, মনে রেখো আমি গোল্লায় গেলে তুমিও ঘ্যাচাংফু, ওই যে সম্পর্ক টু-ইন ওয়ান।

এ বার খোলসা করি দেহ তার মনের কাছে কেমন সাহায্য চাইছে। ভাবতে হবে কোন বিশ্বে আমরা রয়েছি। পৃথিবী গোলাকার জানলেও এবং আছেও, তবু সেই য়ুনিভার্সের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য পাল্টে যাচ্ছে। এর জন্য তাল মেলানোর জন্য আমাদের বর্তমান বিশ্ব-র ডিমান্ড সম্পর্কে হাড়ির খবর রাখা মাস্ট।

রহস্য কোথায়

বিশ্ব এই মুহূর্তে ‘ফ্ল্যাট-ওয়ার্ল্ড’। মরেছে সে আবার কেমনতর। একটু ছোট্ট করে খুলে ধরি, ফ্ল্যাট ওয়ার্ল্ড মানে সমতল বিশ্ব। এই সিস্টেমের মাধ্যমে এমন এক বিশ্বকে বোঝায়, যেখানে প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগলবন্দিতে ভৌগলিক দূরত্ব বা বাধা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ অসুবিধা, ইত্যাদি কোনোকিছুই থমকে পড়ে না। পুরো প্রক্রিয়া বর্তমানে কোনো সমস্যাই নয়। এই ধারণা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করার প্রধান কারিগর হলেন টমাস ফ্রিডম্যান। ওঁর বায়োডাটা- পুরো নাম টমাস লরেন ফ্রিডম্যান। বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক। তাঁর লেখা বই ‘The World is Flat’। সমতল বিশ্বের উপাদানগুলো যেমন ডিজিটাইজেশন, অটোমেশন, আউটসোর্সিং প্রবলভাবে হনহনিয়ে দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। এ এমন এক পৃথিবী, আমাদের শুধু জানা আর শেখা থাকলেও যথেষ্ট বলে গোঁফে তা দেওয়া নো স্যর নো। ওই জানা-শেখা সাময়িক স্বস্তি দিলেও, একদিনের তফাতে বাতিল চিন্তার ঠোঙা হয়ে যাচ্ছে। মহামুশকিল।

তা হলে…

ঘাবড়ানো মানে কক্ষচ্যুত হয়ে এক জায়গায় ঘুরপাক খাওয়া। তার পর ফাইট্যা-ফুইট্যা কসমসে বিলীন। তা হলে নাওয়া-খাওয়ার মতন, ‘লার্ন হাউ টু লার্ন’ জগতে অংশীদার হয়ে অনবরত হজম ক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুরনো-কে নয়া ভাবনার-প্রক্রিয়ায় ভোল পাল্টানো, বা নতুনকে আরও শক্তিশালীতে রূপান্তরিত করো। Flat World এটাই তো চাইছে। বাইক ছুটছে স্পিড টু স্পিড, পিঠে সাঁটানো ঢাউস ব্যাগ, হোম ডেলিভারি, শুধুই রসনাতৃপ্তি নয়, মনের খোরাকের রসদও মজুত, যোগাযোগ ব্যাহত হলে সর্বনাশ। আমার-আপনার মগজে থাকবে, লার্নিং এমন হওয়া চাই, যে প্রসেস আমাদের উত্তেজনায় রাখবে, উৎসাহিত করবে। অর্থাৎ জানা ও শেখাটাকে উন্মাদের মতো ভালোবেসে জাপটে ধরা চাই। ঘাটতি থাকলে অন্তত উপভোগ করো।

সার বোঝা

নটে গাছ মুড়নোর আগে একটা কথা প্লেস করা অবশ্যই আবশ্যক। Flat World মোকাবিলায় আই-কিউ বা ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট নিশ্চয়ই এক হাতিয়ার, তবে একই সঙ্গে সি-কিউ বা কিউরিসিটি কোশেন্ট এবং পি-কিউ বা প্যাসন কোশেন্ট, আরও জবর-জবর ধারালো অস্ত্র। এমনকী অত্যন্ত সহায়ক শক্তি। যেমন একটি কৌতুহলি বাচ্চা জানা-শেখা ও প্রয়োগ ক্ষেত্রে অনেক বেশি পারদর্শী।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *