Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / গীতার মর্মবাণী ও ভারত-চেতনা: আচার বনাম আচরণ

গীতার মর্মবাণী ও ভারত-চেতনা: আচার বনাম আচরণ

আজকের যুগে উৎসব আর শাস্ত্রপাঠের ধুম লেগেই আছে, কিন্তু আমরা কি শাস্ত্রের প্রকৃত সারমর্ম হজম করতে পারছি? কুরুক্ষেত্রের ময়দানে অর্জুনকে দেওয়া শ্রীকৃষ্ণের নির্ভীক কর্তব্যের শিক্ষা হোক বা শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত ‘মানুষের মাঝে ঈশ্বরকে খোঁজা’—সবকিছুর মূলে রয়েছে নিঃস্বার্থ সেবা ও পরমতসহিষ্ণুতা। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

যা হচ্ছে

সবাই গীতাপাঠের বহর দেখে ধন্দে পড়েছে। ধর্মীয় স্থানে গীতা-মেলা হয়েছে, জনসমাগম হয়েছে অলরাইট, কিন্তু…?

মানুষের ছাই কি যে হয়েছে সহজ ভাবে কোনো কিছুই হজম করতে পারছে না। যাহোক আমরা বরং মনে রাখি হিন্দু ধর্মে শাস্ত্রগ্রন্থ বলতে বোঝায় রামায়ণ, মহাভারত, ভগবদ্গীতা, মনু প্রমুখ ঋষি দ্বারা স্মৃতি এবং আগম, পুরাণ ইত্যাদি। সোজা কথা মানুষের কাছে এগুলির গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

ভগবদগীতা, যার চলতি নাম গীতা, মহাভারতের অংশ বিশেষ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও পাণ্ডববীর অর্জুনের মধ্যে কথোপকথনের আকারে এটি সৃষ্ট। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ময়দানে এর উদ্ভব। সকলকে নির্ভীক হয়ে নিঃস্বার্থ ত্যাগের ভাবে নিজের নিজের কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে- তা সে কর্তব্য যতই কঠিন বা অপ্রীতিকর হোক- এই হল গীতার মর্মবাণী। নারী-পুরুষ প্রত্যেককেই নিজের কর্তব্য করে যেতে হবে। একে বলে স্বধর্ম পালন। এর উদ্দেশ্য ঈশ্বরের প্রসন্নতা বিধান, জগতের সেবা এবং তার সঙ্গে সমাজের কাছে আমাদের যা ঋণ তা পরিশোধ করা।

তাই হোক

শ্রীমদ্ভাগবত একটি পবিত্র গ্রন্থ ঈশ্বরাবতার বলেছেন, ‘মানুষকে অপমান করে মন্দিরে আমার পূজা করবে না। তোমাদের সেই পূজা আমি গ্রহণ করি না।’

শ্রীমদ্ভাগবতে ঈশ্বরাবতার কপিল তাঁর মা দেবহূতিকে এই উপদেশ দিচ্ছেন- ‘অতএব সমস্ত জীবের (হৃদয়ই) আমার মন্দির-স্বরূপ জ্ঞান করে দান রূপে তাঁদের সকল অভাব দূর করে এবং মান রূপে তাঁদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে তাঁদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার এবং একাত্মবোধ সহযোগে তাঁদের মধ্যেই আমার উপাসনা কর।…’

ভারতবর্ষ কি দিতে পারে এবং দিয়েছে ডুব দিই সেই উপলব্ধিতে। প্রয়াত আমেরিকান দার্শনিক ও ঐতিহাসিক হাসিক উইল ডুরান্ট তাঁর দশখণ্ডে সমাপ্ত ‘Story of Civilisation’ (সভ্যতার ইতিকথা) গ্রন্থে আধুনিক যুগ ভারতীয় সভ্যতার কাছে কী শিখতে পারে, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, “ভারত আমাদের শেখাবে পরিণত মনে সহনশীলতা ও নম্রতা। জীবাত্মার দখলদারি মনোভাব পরিহার করে এক শান্তি ও সন্তোষপূর্ণ মানসিকতা। ভারত শেখাবে পরমতসহিষ্ণু মনের প্রশান্তি ও সকল জৈবিক সত্তার প্রতি এমন এক গভীর প্রেমানুভূতি, যা শান্তির নিবিড় বেষ্টনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করবে।’ (Vol.1, Oriental Heritage p.633)

না-না নটে গাছ এখনও মুড়োয়নি, কারণ আমিও তো যাবতীয় উপাদানে তৈরি একটা মানুষ। যার অনুভূতি আছে এবং সেগুলি ভাববার বিষয় পেলে আস্কারা পেয়ে ক্রমাগত খোঁচাতে থাকে। সেখান থেকেই উঠে আসছে, ভারত যেমন চাই তেমন গড়বে তো। না কি ওই সুড়সুড়িতেই ফুলো আর মলো। ক্লাসিকাল মিথ্যা।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *