শহরের ব্যস্ত রাজপথে পায়রা খাওয়ানোর দৃশ্য খুবই সাধারণ। অনেকের কাছে এটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভাগ্যের প্রতীক, আবার অনেকের কাছে এটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টের এক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই প্রথা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধর্মীয় আবেগ বনাম জনস্বাস্থ্য—এই দ্বন্দ্বে উঁকি দিলেন অরুণাভ গুপ্ত
আচমকা
তখন আমি মুম্বই। দুম করে ঘটনা ঘটল। দেখলাম, শুনলাম, প্রচুর লেখালেখি পড়ে ফেললাম। যাদের কেন্দ্র করে প্রশাসন থরহরি কম্প পরিচয়ে এরা একরকম পায়রা। হিন্দু পুরাণ শাস্ত্রে পায়রা শুধু পাখি নয়, রতিদেবীর বাহন। বোধহয় সেই কারণেই বিশেষ করে মুম্বইবাসীরা কবুতর খাওয়ানোকে গুড লাক বলে মনে করে। ফলে মন্দির, বিশাল বিশাল আকাশছোঁয়া কমপ্লেক্সের ছাদে, রাস্তা-ঘাটে প্রকাশ্যস্থানে আশ মিটিয়ে পায়রা খাওয়ানো চলে। ছড়ানো-ছিটানো শস্যদানা পায়ে-পায়ে আরও ছড়ায়। একদল খাওয়ায় অন্য দল মুখে রুমাল চাপা দিয়ে চলেন-ফেরেন।
কোনো প্রশ্ন নয়
কারণ প্রশ্ন থাকলেও তর্কাতর্কির ভয় আছে। প্রথমত ভাবাবেগে আঘাত হানা হবে, দুই, যখনই কবুতরপ্রেমিকদের ভক্তির ক্ষেত্রে অন্তরালে যে অসঙ্গতি কাজ করছে, প্রকাশ হবে দ্বন্দ্ব নিশ্চিত। যেমন, কবুতর লাভার্সরা, যারা দরাজ হস্তে শস্যদানা বিলোচ্ছে পাবলিক প্লেসে, তাদের কেউ কেউ কিন্তু নিজেদের বাড়িঘর যাতে কবুতর বিষ্ঠায় নোংরা না হয় নেট দিয়ে ঘিরে রেখেছে। একই অঙ্গে কত রূপ।
হস্তক্ষেপ
মহামান্য হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। যত্রতত্র পাবলিক প্লেসে খাওয়ানোর অনুমতি দেওয়া অসম্ভব। নির্দিষ্ট স্থানে ছাউনি দেওয়া থাকবে সেখানো কবুতর খাওয়ানোয় আপত্তি নেই। নির্দেশের যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। যেহেতু পায়রার বংশবৃদ্ধি হতেই থাকবে এবং বায়ুবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়বে-ছড়াবে, শাসযন্ত্রের , ফুসফুসের ক্ষতি অনিবার্য। ব্যস তুমুল কাণ্ড, বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষোভে-দুঃখে ফেটে পড়ে। অথচ তারা কিন্তু অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়-স্বল্পভাষী গোষ্ঠীরূপে সমাজে আদৃত। কথায় বলে শান্ত চরিত্র কোনো কারণে ক্ষেপে গেলে রোখা দায়। বিশেষ করে মুম্বইতে কবুতর খাওয়ানো সংবেদনশীল বিষয়। যেহেতু স্বাস্থ্য-ধর্ম-জনজীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট, কবুতর দেখভাল ধার্মিকতার প্রতীকী কাজ। মানবিকতার ধর্ম।, সব ঠিক। মানুষমাত্রেই পাখি প্রেমিক, কেউ এদের অনাদর ও অত্যাচার করার পক্ষপাতি নয়। তবে ভালবাসা তালজ্ঞান হারালে মহামুশকিল।
প্রশ্ন আছে
উত্তর জানা থাকলেও জানতে মন চায় কোনটা বেশি অপরিহার্য। মানুষ সুস্থ-সবল বাঁচুন, ঝাঁক-ঝাঁক পায়রার বায়ুবাহিত রোগে শ্বাসজনিত কষ্টে ভুগতে না হয়, পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কবুতর খাওয়ানো যেমন পবিত্র কাজ ও মানবিক, তেমন মানুষকে বা মানুষের জীবনহানির ক্ষেত্রে সদর্থক পদক্ষেপ আবশ্যক। না হলে শুধু জেদ বজায় পূণ্যির পথে কাঁটা হতে বাধ্য। কেন ভাবব না পরিচয়ে তো একটাই সংজ্ঞা… মানুষ। উল্টো ঘটলে মানবতা অর্থহীন, তখন মানুষ একে অপরের দিকে আঙুল তুলে বলবে, এ কেমন মানুষ আমি মানুষ তুমি বলতে পার!










