Home / প্রবন্ধ / রোববারের লেখা / বেদান্ত থেকে কনফুসিয়াস, কোথায় গেল সেই মানবতা

বেদান্ত থেকে কনফুসিয়াস, কোথায় গেল সেই মানবতা

কনফুসিয়াস বা সেন্ট টমাস আকুইনাস যে মানবতার কথা বলেছিলেন, আধুনিক সমাজে তার চিহ্ন কতটুকু অবশিষ্ট? লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত

পার্ট-ওয়ান

মন বনবনিয়ে ঘুরছে। ল্যান্ডিং করার সময় ঝাঁকুনি খেলে কেলোর কীর্তি। আগে লিটল-বিট ইতিহাস, না যা ঘটছে তার বিবরণ দেব। অবশ্য প্রকাশিত খবর হয়তো নজর এড়ায়নি মানুষের, গুরুত্ব দেওয়ার দরকার আসেনি। অতএব হিস্ট্রি ফার্স্ট।

উম বুঝলেন পাঠক মানবতা ধারণা সেই রেনেসাঁর সময় থেকে। কনফুসীয় দর্শন। কনফুসিয়াস (প্রাচীর চিনের প্রখ্যাত দার্শনিক কাম চিন্তাবিদ) বলেছিলেন, মানবতা হল মানুষের প্রতি ভালবাসা। সেন্ট টমাস আকুইনাস (ইতালির একজন ক্যাথলিক ধর্মবেত্তা ও সন্ন্যাসী মানসিকতার যাজক) বলতে দ্বিধা করেননি, মানবতা সপ্তসর্গীয় গুণাবলীর অন্যতম।

বোঝাবুঝির পালা আপাতত শেষ। এখন এই মানবতা পালন করে কারা। কারা আবার এই বিশ্বে একটাই তো জাত আছে যার পরিচয় মানুষ, তারা। অখণ্ড বেদান্ত তাই যে বলে এসেছে। চিরটাকাল। বেদান্ত, উপনিষদ সবই তো আমাদের, মানে মানুষের। তাহলে মানুষের পবিত্র আত্মা কোথায় গেল সব। চুলোয়। কেন এমন রণংদেহী জিজ্ঞাসা। জানব বইকি অবশ্যই। পার্ট-টু-তে।

পার্ট-টু

বিহারের সীতামঢ়ী জেলার অন্তর্গত পুপরি থানার ঝাঝিহাট গ্রামের ঘটনা। গত শুক্রবার সক্কাল সক্কাল টিউশন পড়ে বাড়ি ফেরার রাস্তা ধরেছিল ক্লাস সেভেনের ছেলে রীতেশ। সেই সময় খুব জোরে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই রীতেশের মৃত্যু ঘটে। বেপরোয়া ড্রাইভিং প্রাণ কেড়ে নিল কিশোরের। যথারীতি ট্রাকচালক পলাতক এবং পুলিশ ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করে চালকের সন্ধান পেতে খোঁজখবর নেয়।

এ বার মূল বিষয় হল ট্রাকটি ছিল মাছ বোঝাই এবং ছেলেটিকে ধাক্কা মারার পর তড়িঘড়ি পালাতে গিয়েই হোক ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ফলে রাস্তাময় মাছের ছড়াছড়ি। পোয়াবারো পথচলতি মানুষ আর স্থানীয়দের, হামলে পড়ে শুরু হয়ে গেল মাছ লুট, এ যেন এলোমেলো করে দে লুটেপুটে খাই। সমাজমাধ্যমে ভিডিও হতেই নিন্দার সাইক্লোন বইল। আরও মর্মান্তিক ও অমানুষিক খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা যখন পড়িমরি করে ছুটে এলেন, তখনও তাদের সামনে দেদার মাছ কুড়নো পর্ব চলছে।

এই পশুসুলভ মানসিকতার জনতার গন্ডারের চামড়া। তাদের কাছে নিন্দা ইত্যাদি নস্যি মাত্র।

লাস্ট- পার্ট

রীতেশ কুমার তোমার ভাগ্যলিপি বোধহয় এই ছিল। কিন্তু পরের জঘন্য-ইতর-বর্বরোচিত ঘটনার জন্য মন প্রস্তুত ছিল না। এ রকমের নীচ-হীন প্রবৃত্তির স্তরে নেমে আসা মানুষদের মানুষ বলে মানা অসম্ভব। এরা মানুষের শরীর ধারণ করলেও নিম্নস্তরের কর্মে বিশ্বাসী।… মাছ লুটেরাদের কাছে জানতে ইচ্ছে করতেই পারে, মাছের স্বাদ কেমন ছিল?

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *