অম্বেডকরের চিন্তাজগৎ নির্মাণে প্রভাব ফেলা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা ‘টার্নিং পয়েন্ট’, যা তাঁর দর্শনকে নতুন দিশা দিয়েছিল। লিখলেন অরুণাভ গুপ্ত
গত মাসে মানে ২৬ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার ঘটা করে দেশ জুড়ে সংবিধান দিবস পালিত হল। আর সংবিধান বলতে আমাদের ঠোঁটে একটাই নাম উচ্চারিত হয়- ড. বিআর অম্বেডকর। ওঁর লাইফ হিস্ট্রি বহুজনে-বহু ভাবে চর্চিত। ওখান থেকে কিছু অম্বেডকর চিন্তাভাবনা-মানসিকতা বিষয় মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। প্রশ্ন আসে তা হলে!
টার্নিং পয়েন্ট-১
অম্বেডকরজি-র বাবা সুবেদার রামজি কবির পন্থের একনিষ্ট ভক্ত ছিলেন। লেখা বাহুল্য কবিরের দোহা বৈষিষ্ট্য আদ্যোপান্ত যুক্তিবাদ ও মানবিক। ফলস্বরূপ কবির দর্শন ছেলেবেলা থেকেই অম্বেডকরের মনে পাকাপোক্ত আসন পেতেছিল। আবার ম্যাট্রিক সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর শিক্ষক প্রশংসার পাশাপাশি অম্বেডকরকে “লাইফ অব বুদ্ধা” বই উপহার দেন। যা কৈশোরেই গভীর ছাপ ফেলে তাঁর উপর।
টার্নিং পয়েন্ট-২
পশ্চিমি উদারনৈতিক চিন্তাভাবনা ও মানবিত দর্শনের একজন পড়ুয়া হিসাবে বিশ্বখ্যাত চিন্তানায়কদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ মিলেছিল। যেমন অধ্যাপক জন ডিউই, জন স্টুয়ার্ট মিল, এডমন্ড বার্ক ও হ্যারল্ড ল্যাস্কি প্রমুখ ছাড়াও আরও অনেক বিদগ্ধ চিন্তাবিদদের বিষয় ভিত্তিক ব্যাখ্যায় অম্বেডকর সমৃদ্ধ হয়েছেন। যেখানে বাস করেছেন, যে পরিবেশে অহরহ যন্ত্রণা কুরে খেয়েছে, তার সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিল ছিল না বলেই অম্বেডকর একজন প্রবল মানবতাবাদীরূপে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। মূলে পশ্চিমি ভাবধারার প্রভাব।
টার্নিং পয়েন্ট-৩
অচ্ছ্যুত পরিবারে জন্মগ্রহণের ফলে অম্বেডকর ব্যস্ত ছিলেন অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তিনি বিশ্বাস করতেন দুর্বল ও অত্যন্ত ঘৃণার শ্রেণির মানুষ বলে অচ্ছ্যুতরা সমাজে বিবেচিত হত। তিনি পরিস্কার তাঁর সমর্থক অনুগামীদের বলেছেন, সমানাধিকার সুযোগ-সম্মান যে ধর্ম তোমাকে দেবে তাকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করো।…
আকাঙ্ক্ষিত সংবিধান সম্পন্ন করার পর অম্বেডকরের স্মরণীয় বক্তব্য ছিল, “I feel that the constitution is workable, it is flexible and it is strong enough to hold the country together both in peacetime and in wartime. Indeed if I may say so, if things go wrong under the new constitution, the reason will not be that we had a bad constitution. What we will have to say is that Man was vile.”










