Home / প্রবন্ধ / উনিশ শতকে কলকাতার অদূরে ভূতের ভাটিখানা

উনিশ শতকে কলকাতার অদূরে ভূতের ভাটিখানা

ছবি: প্রতিবেদক

মুকুট তপাদার

পাড়া নয়, ইতিহাসের সরণি। পুণ্যগঙ্গার কাছাকাছি উনিশ শতকের স্মৃতি। এখানে মন্দিরের সামনে পুরনো গাছের ডাল গঙ্গার জল ছুঁয়ে ফেলে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে কত পুরনো দেবমন্দির। কাছেই সাহেবকুঠি, বাজার, মন্দির ঘেরা ঘাট ও বহু মহাপুরুষের দ্বারা পরিচিত বরানগর জনপদ।

১৮৯২ সাল, বরানগরের জীর্ণ পোড়ো বাড়িটি থেকে রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীরা উঠে এলেন নতুন আর এক পরিত্যক্ত বাড়িতে। ১১ টাকায় বাড়িটি ভাড়া পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময় আমেরিকা থেকে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে স্বামীজি নিয়মিত পত্রালাপ করছেন। নিঝুম পরিবেশে গঙ্গার কাছে দ্বিতীয় বসবাস স্থলে তখন তীব্র অনটন ও চরম খাদ্যের অভাব।

বাড়িটি নিয়ে জনমানসে অনেক রকম কৌতুহল ছিল। সকলেই ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে চিনতেন। শোনা যায়, এই বাড়িতে আগে দুইজন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।

বাড়িটিতে পরিত্যক্ত এক হল, ভাঙা দেওয়াল ও নিঝুম বাগানে ঘেরা জায়গা নিয়ে যেন এক চাপা কাঁদন লেগে আছে। সকাল সন্ধ্যা পরমহংসের শিষ্যদের  নাম গানের শব্দ ছাড়া সেভাবে বাড়িটি থেকে আওয়াজ আসতো না। পিলারযুক্ত বাড়িটি ছিল উত্তর ২৪ পরগনার টাকি জমিদার পরিবারের। বাড়ির নিচতলাতে বড় এক হল ঘর, পুকুর, কূপ ও সামনে বাগান ঘেরা ছিল।

মঠে ‘ভূতের ঘর’ বলে পরিচিত জায়গাটিতে সন্ন্যাসীদের সঙ্গে স্বামী অভেদানন্দ একদিন জপ ধ্যান করেছিলেন। আবার স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ বাড়িটিকে বলতেন ‘ভূতের ভাটিখানা’। সন্ন্যাসীরা এই বাড়ির ছাদ থেকে নানা রকমের শব্দ শুনতে পেতেন। একবার শব্দ শুনে রামকৃষ্ণানন্দ ছাদে উঠে দেখেন একটি লন্ঠন জ্বলছে। আর পাশে দুটি ডাম্বেল পড়ে আছে। এই দেখে তিনি বলেন, “আজকাল ভূত কি লন্ঠন নিয়ে খেলেন”।

ছবি: সংগৃহীত

১৮৯৭ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোর বিখ্যাত বক্তৃতার পর আলমবাজারে পদার্পণ করেন। কলকাতায় পথের দুপাশে তখন ভিড়ে ঠাসা মানুষেরা শুধুই বলছেন ‘স্বামীজীর জয়’। স্বামীজী সকল সন্ন্যাসীদের সঙ্গে এখানে সংঘের কর্মসূচি তৈরি করেন। সম্প্রতি আলমবাজারের মঠটি বেলুড় সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়। মঠটি সময়ের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *