ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে ঘিরে মালদহে বুধবার রাতের অশান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনআইএ-কে। জানা গিয়েছে, শুক্রবারই সংস্থার আধিকারিকরা রাজ্যে এসে তদন্ত শুরু করবেন।
এদিকে মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় এই অশান্তির ঘটনায় এক আইএসএফ প্রার্থী-সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আপাতত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা ও হামলার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে চিহ্নিত করে আদালত তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। শেষমেশ নির্বাচন কমিশন তদন্তভার দিয়েছে এনআইএ-র হাতে, ফলে চাপে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।
বুধবার রাতে মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাতজন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তাঁদের গাড়িতেও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং আদালতের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।” তাঁর পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দেওয়ায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। মুখ্যসচিব, ডিজি, মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে শো-কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে।এদিকে, নির্বাচন কমিশন-এর জরুরি বৈঠকেও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় পুলিশ কেন নিষ্ক্রিয় ছিল। কলকাতায় নির্বাচন দফতর ঘিরে অশান্তি নিয়েও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সবমিলিয়ে, মালদহের এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এনআইএ-কে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।










