Home / খবর / জেলায় জেলায় / স্বপ্না বর্মণের সমর্থনে জনসভা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বপ্না বর্মণের সমর্থনে জনসভা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক সেনগুপ্ত, জলপাইগুড়ি: ভোট প্রচারে হাতিয়ার নারীশক্তি। বাংলার মসনদ জয়ে মাতৃশক্তিকেই আবেদন তৃণমূলের সেকেণ্ড ইন-কমান্ডের। হাতিয়ার করলেন রাজ্য সরকারের উন্নয়নকেই। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি-সহ একাধিক ইস্যুতে নিশানা করলেন মোদী সরকারকে। বুধবার রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ির সুদামগঞ্জের এক ময়দানে ‘সোনার মেয়ে’ স্বপ্না বর্মণের সমর্থনে জনসভা করলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি উত্তরের সমস্যা নিয়েও সরব হন অভিষেক। আমজনতার সামনে তুলে ধরেন রাজগঞ্জ ব্লক-সহ সামগ্রিক এলাকার উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড।

এদিন সকাল থেকেই উন্মাদনা দেখা দেয় জেলা তৃণমূল শিবিরে। বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ মঞ্চে ওঠেন অভিষেক। ছিলেন দলের জেলা চেয়ারম্যান তথা রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়, জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ, জলপাইগুড়ি সদরের প্রার্থী কৃষ্ণ দাস, ময়নাগুড়ির প্রার্থী রামমোহন রায় সহ অন্যরা। অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আরও উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। কিন্তু রাজ্যের টাকা আটকে রেখেছে দিল্লির জমিদারেরা। এদিকে রান্নার গ্যাস, কেরোসিন, দুধ-সহ সব প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়েই চলেছে কেন্দ্র। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠছে জন সাধারণের। এদিন রাজগঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের সমর্থনে প্রচার করার সময় পূর্বতন বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের আমলে হওয়া কাজ গুলির কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রেই সদ্য হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ চালু হয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বেলাকোবায় পলিটেকনিক কলেজ হয়েছে এই আমলেই। গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। ১২ কোটি টাকা বরাদ্দে ঝুলন্ত সেতুর কাজ চলছে। দেবী চৌধুরাণীর মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। এরপরে রাজ্য সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “২৭,২১৩ জন যুবসাথী পেয়েছেন। ১০ হাজার মানুষের মাথার উপরে ছাদ হয়েছে। রূপশ্রী প্রকল্পেও ভালো কাজ হয়েছে। ৪২ কোটি টাকায় পথশ্রী প্রকল্পে ৪০টি রাস্তা করা হচ্ছে বলেও দাবি তার। তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় হোক বা অন্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে এসেছেন। রাজ্য সরকার ও প্রশাসন দুর্গতদের ত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তার কটাক্ষ, জনদরদি রাজ্য সরকার যখন মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে চায়, তখন মোদি সরকার নোটবন্দী, এসআইআরের নামে আমজনতাকে হয়রান করতে তুলেছে। আট থেকে আশিকে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। ২৩ তারিখ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ইঞ্চিতে শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অভিষেকের আরও দাবি রাজগঞ্জে স্বপ্নার জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। রাজগঞ্জে মহিলা প্রার্থী জিতলে নারী ক্ষমতায়ন শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, স্বপ্নাকে আটকাতে ওরা আদালতে গেলেও লাভ হয়নি। স্বপ্না সোনা জিতেছে, নির্বাচনেও জিতবে। ও জিতলে এখানে কোল্ড স্টোরেজ হবে। সব বাড়িতে নলবাহিত জল পৌঁছবে। খগেশ্বরের অসমাপ্ত কাজ গুলিকে স্বপ্না পূরণ করবে।

alternatetext
Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *