দুর্গাপুর: রাজ্যে প্রথম দফায় নির্বাচন বাকি ঠিক এক মাস। তারই মধ্যে প্রচারের একেবারে প্রথম ধাপে সোমবার বিজেপির রাঢ়বঙ্গ জোনের ৫৬ জন প্রার্থীদের নিয়ে হাই ভোল্টেজ নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠক হল দুর্গাপুরের বামুনারায়। এই বৈঠকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব, রাজ্যের পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সাংগঠনিক নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন । নির্বাচনকে দলীয় নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করলেন তারা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে মোকাবিলা করতে ও একই সঙ্গে প্রার্থীদের মনোবল বাড়ানোর জন্য এই বৈঠকে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমিক ভট্টাচার্য বলেন , নিজেদের পরিবারের সদস্যদের ভিতরে আলোচনা হয়েছে। সেটা বাইরে বলা যায় না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একদিকে আরজিকর হাসপাতালে পরপর দুটি ঘটনায় দুজনের মৃত্যু, অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্র এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে নামা নিয়ে শাসক দলকে আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন মা, মাটি ও মানুষ বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন। ২০১৯ সাল থেকে বাংলার মানুষ একটা বাইনারি তৈরি করে ফেলেছেন যে, বিজেপি একমাত্র পারে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে। তাই তারা এবার পদ্মফুলকে নিজেদের সিম্বল বেছে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি এও বলেন, একা বিজেপির কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে পারবেন না। তাই সবাইকে একজোট ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবার লড়াই করতে হবে। এবার বাংলার মানুষেরা তৃণমূল কংগ্রেস নামক ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন। সোমবার প্রকাশিত হতে চলা সাপ্লিমেন্টারী ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, এই কাজ নির্বাচন কমিশনের। আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করে ভোট করতে হবে। আমরা যে ফর্ম ৭ জমা দিয়েছি, তার শুনানি করতে হবে। আমাদের যেসব ফর্ম ৭ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও পুলিশ কেড়ে নিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে, তা দেখতে হবে। হঠাৎ করে এসআইআর শেষ হয়ে গেছে বলে নির্বাচন করা চলবে না। আরজি কর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগে দেখা হোক কোন কোম্পানি ওই লিফ্ট বসিয়েছে। সাংবাদিকরা তা বার করুক, তাহলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার দাবি, রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার না গেলে, কোনওকিছু ঠিক হবেনা।









